'ব্রিটিশের দালাল ছিলেন রামমোহন রায়', বিজেপি মন্ত্রীর মন্তব্যে হুলস্থূল, 'অস্মিতার প্রশ্নে আপস নয়', পালটা সরব TMC

রাজা রামমোহন রায়ের তীব্র সমালোচনা। "ব্রিটিশদের দালাল" বলে উল্লেখ বিজেপি মন্ত্রীর। আর এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা।

রাজা রামমোহন রায়ের তীব্র সমালোচনা। "ব্রিটিশদের দালাল" বলে উল্লেখ বিজেপি মন্ত্রীর। আর এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা।

author-image
Sayan Sarkar
New Update
রাজা রামমোহন রায়, ইন্দ্র সিং পারমার, বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, বিরসা মুন্ডা, বাংলার প্রতীক, সমাজ সংস্কারক, সতীদাহ প্রথা, বাঙালি বিদ্বেষ, রাজনীতি, মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রী, বাংলা সংস্কৃতি, বাঙালি ঐতিহ্য, রাজা রামমোহন রায় বিতর্ক, BJP Bangla Birodhi, Bengal politics, TMC reaction, BJP controversy

রাজা রামমোহন রায়ের তীব্র সমালোচনা।

রাজা রামমোহন রায়ের তীব্র সমালোচনা। "ব্রিটিশদের দালাল" বলে উল্লেখ বিজেপি মন্ত্রীর। আর এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। 

Advertisment

মধ্যপ্রদেশ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ইন্দ্র সিং পারমার সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে “ব্রিটিশদের দালাল” বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি  রামোহন রায়ের বিরুদ্ধে জাতপাতের ভিত্তিতে দেশে বিভাজনের সৃষ্টির ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এনেছেন। বিজেপির মন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিরাট বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, CBI-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ

Advertisment

বিজেপি নেতা তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে বলেন, “রাজা রামমোহন রায় ছিলেন ব্রিটিশদের দালাল"। বাংলায় ব্রিটিশরা ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মান্তরের একটি “দুষ্ট চক্র” চালাচ্ছিল এবং অনেক ভারতীয় সমাজ সংস্কারকও এই প্রচেষ্টার অংশ ছিলেন। যারা নিজেদের ব্রিটিশদের “দাস” বানিয়ে রেখেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিরসা মুন্ডা রাজা রামমোহন রায়ের শুরু করা “ধর্মান্তরের চক্র” বন্ধ করেছিলেন"।

দুই ব্যক্তিত্বের তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, “এর মানে হল, বিরসা মুন্ডা সমাজকে বাঁচানোর, আদিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য কাজ করেছিলেন।” ইন্দ্র সিং পারমারের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় সমাজের নবজাগরণের জনক হিসেবে এবং সতীদাহ প্রথা বন্ধের পথিকৃৎ হিসাবে স্মরণ করা হয়। 

আরও পড়ুন- কাঁপছে দার্জিলিং, চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা? জানুন রবিবারের ওয়েদার রিপোর্ট

এদিকে মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লেখা হয়েছে, "বাঙালি আবেগ ও অস্মিতার উপর বারে বারে আঘাত হানা হচ্ছে। এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছে বিজেপি। বাংলাতেই, অমিত শাহের এক জনসভায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। জেপি নাড্ডা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থানকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছেন। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাদ দেওয়া। সব ঘটনাই বিজেপির বাঙালি বিদ্বেষের জলজ্যান্ত উদাহরণ"। 

অপরদিকে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "আমার কাছে রাম মানে রাজা রামমোহন রায়। আমার ঈশ্বরের নাম ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, আমার ঠাকুরের নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাঙ্গালির প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল। সমাজের নারী কল্যাণ ও নারী স্বাধীনতায় রামমোহনের অবদান অবিস্মরণীয়। বিজেপি নারী বিদ্বেষী তাই তারা রামমোহনকে আক্রমণ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলার মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই অপমানের যোগ্য জবাব দেবে। এই কারণেই আমরা বিজেপিকে বহিরাগত জমিদার বলি। যারা ব্রিটিশের দালালি করে এসেছে তারাই আজ রামমোহনকে ব্রিটিশের দালাল বলছে, এটা লজ্জার। বারে বারে বিজেপি বাঙালি অস্মিতার উপর আঘাত হানার চেষ্টা করেছে"।  

আরও পড়ুন-  SIR আতঙ্কে বাংলায় পরপর মৃত্যু! দায় কার? কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

tmc bjp Raja Ram Mohan Roy