/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/09/bjp-2026-02-09-13-57-43.jpg)
বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এবার বড় খেলা বিজেপি
ভোটের আগে বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে বিরাট কর্মসূচির ঘোষণা করল বঙ্গ বিজেপি। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দিনের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করা হবে এবং রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হবে রাজ্যে শাসনের পরিবর্তনের বার্তা। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ৬৪টি বড় জনসভা এবং ৩০০-রও বেশি ছোট সমাবেশের আয়োজন করা হবে। কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্বে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশাল জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভাষণ দেবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, এই যাত্রা বাংলায় পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো স্লোগান উঠবে। যার লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। তাঁর দাবি, তৃণমূল প্রায় ক্ষমতা হারানোর মুখে এবং রাজ্যে এমন কোনও শক্তি নেই যা তাদের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারে। ক্ষমতার এই পালাবদল মসৃণ করতে রাজ্যে নয়টি বড় সমাবেশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ ও ২ মার্চ রাজ্যের নয়টি পৃথক স্থান থেকে একযোগে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হবে। ১ মার্চ কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রা শুরু হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি-সহ আরও কয়েকটি স্থান থেকে যাত্রা বেরোবে। এই সূচনাপর্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নীতিন গড়কড়ি, ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
৩ ও ৪ মার্চ হোলি উৎসব উপলক্ষে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হবে। এরপর পুনরায় শুরু হবে প্রচার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রা যে সকল বিধানসভা কেন্দ্রগুলি অতিক্রম করবে, সেখানে পরের দিন একটি বড় জনসভা করে প্রচার জোরদার করা হবে। ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির উপস্থিতি নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক উঠেছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে। কিন্তু গত ১৫ বছরে মানুষ কী পেয়েছে, তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে, গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং দুর্নীতি ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে।
এদিকে, দলীয় সূত্রের খবর, সল্টলেকে বিজেপির দপ্তরে মঙ্গলবার এক বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও যাত্রার সমন্বয়কারীদের ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুনীল বনসল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানে পরিবর্তনের বার্তাকে আরও জোরদার করা, সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং রাজ্যজুড়ে শক্তিপ্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে দলীয় অন্দরে স্বীকারোক্তি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী হলেও সেই বার্তা তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন-প্রকাশ্যে মাংস বিক্রিতে জারি নিষেধাজ্ঞা, বিজেপির বড় সিদ্ধান্ত, গর্জে উঠলেন মমতা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us