/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/12/lvOTirhCiLxkSLCn3v4T.jpg)
Suvendu Adhikari & Mamata Banerjee: শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Kolkata News Updates: "আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিই রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে", এমনই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দুবিরোধী’ ভোটের প্রায় ৬ শতাংশ বিজেপির দিকে এলেই রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন সম্ভব।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটের হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। বিধানসভা নির্বাচনে জিততে হলে আরও অন্তত ৬ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এই অতিরিক্ত ভোট আসতে পারে সেই হিন্দু ভোটারদের কাছ থেকে, যাঁরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।
এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ফের নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন, তবে তাঁকে আরও বড় ব্যবধানে পরাজিত করবেন। তিনি বলেন, “২০২১ সালে আমি তাঁকে দু’হাজারেরও কম ভোটে হারিয়েছিলাম। এবার তিনি নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ালে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারাব।”উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেই শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরেন।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, রাজ্যের এক বড় অংশের মুসলিম ভোটারও তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাইছেন। তাঁর কথায়, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রকৃত ভারতীয় মুসলমানদের কোনও ভয়ের কারণ নেই। বরং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আমি কখনও বলি না যে আমরা মুসলিম ভোট চাই না। কিন্তু বাস্তব হল, বিজেপি মুসলিম ভোট পায় না। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হোক বা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মুসলিম ভোট পেয়েছে এক শতাংশেরও কম।”
পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করলেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। কোচবিহার জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা কখনওই সফল হবে না। সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিজনক। তাঁর কথায়, “এটা কোনও আলাদা দেশ নয়। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বলেছিলেন, কলকাতায় হোটেল থেকে অমিত শাহকে বেরোতে দেওয়া হয়েছে, এতে মনে হয় তিনি পশ্চিমবঙ্গকে অন্য কোনও দেশ ভাবছেন।”
নিজের অভিনীত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবির প্রসঙ্গ টেনে এনে মিঠুন চক্রবর্তী দাবি করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের যেভাবে উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, তেমনই পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা বাংলাতেও হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, দেবীর প্রশংসায় গান গাওয়ায় শিল্পী লগ্নাজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনাও সেই মানসিকতারই প্রতিফলন। মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “ওরা ভাবতে পারে যে বাংলা বাংলাদেশ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই দিন কোনও দিন আসবে না। যতদিন মিঠুন চক্রবর্তীর শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকবে, ততদিন এই রাজ্য বাংলাদেশ হবে না।” তিনি আরও বলেন, বিজেপি সংবিধানে বিশ্বাস করে বলেই এখনও সংযম বজায় রাখছে। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, কলকারখানা, কর্মসংস্থান কিংবা পরিকাঠামোগত স্বাস্থ্যব্যবস্থা কিছুই নেই। তাঁর অভিযোগ, “এই রাজ্যে দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us