West Bengal BJP: তৃণমূলস্তরে ঘাসফুলের মূল উপরে ফেলতে মরিয়া বিজেপি, বঙ্গজয়ের নয়া রণকৌশল কাঁপুনি ধরাবে মমতা-অভিষেককে?

West Bengal BJP: বাংলার মন বুঝতে ব্যার্থ হিন্দী বলয়ের বিজেপি নেতারা? বিস্ফোরক মন্তব্যে বোমা ফাটিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এবার সেই হিন্দী বলয়ের নেতাদের উপরই 'বাংলা জয়ে' আস্থা রাখছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

West Bengal BJP: বাংলার মন বুঝতে ব্যার্থ হিন্দী বলয়ের বিজেপি নেতারা? বিস্ফোরক মন্তব্যে বোমা ফাটিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এবার সেই হিন্দী বলয়ের নেতাদের উপরই 'বাংলা জয়ে' আস্থা রাখছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Haryana and J & K Election Result Live Updates

'বাংলা জয়ে' মরিয়া ঘাসফুল

West Bengal BJP: বাংলার মন বুঝতে ব্যার্থ হিন্দী বলয়ের বিজেপি নেতারা? বিস্ফোরক মন্তব্যে বোমা ফাটিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এবার সেই হিন্দী বলয়ের নেতাদের উপরই 'বাংলা জয়ে' আস্থা রাখছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। অঙ্গ, কলিঙ্গ জয়ের পর এবার গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য 'বঙ্গ'। ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘টিম বেঙ্গল’ গড়ল বিজেপি। 

Advertisment

আরও পড়ুন-"জয় শ্রী রামে জোর নয়, জয় হিন্দ বলতে বাধা কোথায়?”, সংখ্যালঘুদের প্রশ্ন শুভেন্দুর

২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলেই বাংলায় বিধানসভা  নির্বাচন। এবারের নির্বাচনকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে গেরুয়া শিবির। বিহার জয়ের পর বঙ্গ জয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বঙ্গ সফরের আগেই ভোটের লড়াইয়ে কোমর বেঁধে আসরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলায় ভোটের দায়িত্বে ফের একবার ভিন রাজ্যের নেতৃত্বের উপরেই আস্থা রাখল গেরুয়া শিবির। রাজ্যকে ছ’টি অঞ্চলে ভাগ করে বিজেপি গড়ে তুলেছে ‘টিম বেঙ্গল’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞ সংগঠক, নেতা ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাগুলির জন্য। দলীয় সূত্রের খবর, এর মূল লক্ষ্য তৃণমূলের জেলা-স্তরের আধিপত্যকে ভেঙে বুথ-স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করা।

Advertisment

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বর্ধমান রাঢ় বঙ্গকে বিজেপি এই এখনও সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জেলা বলেই মনে করছে। তাই এই অঞ্চলে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ের সংগঠন সম্পাদক পবন সাঈকে। সঙ্গে থাকবেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী ধন সিং রাওত। এই অঞ্চলে বিজেপি ২০১৯-এ শক্ত জমি তৈরি করলেও ২০২৪-এর লোকসভায় বাঁকুড়া ও বর্ধমান আসন হাতছাড়া হয়েছে দলের।

আরও পড়ুন- “চাপ আর নিতে পারছি না”, ফের আত্মহত্যা BLO-র, “আর কত প্রাণ যাবে?”, ফুঁসছেন মমতা

হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুরের দায়িত্বে রয়েছেন দিল্লির সংগঠন সম্পাদক পবন রানা। হাওড়া–হুগলির অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে হরিয়ানার নেতা সঞ্জয় ভাটিয়ার ওপর। আর মেদিনীপুরের দায়িত্বে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী জেপিএস রাঠোর। এর পাশাপাশি কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যা তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। এই দুর্গ ভাঙার লক্ষ্যে বিজেপি মোতায়েন করেছে হিমাচলের দক্ষ সংগঠন সম্পাদক এম সিদ্ধার্থন এবং কর্ণাটকের হেভিওয়েট  নেতা সি টি রবিকে। 

নবদ্বীপ ও উত্তর ২৪ পরগনা এই দুই জেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই দুই জেলার দায়িত্বে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের সংগঠন সম্পাদক এন মাধুকর ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের নেতা সুরেশ রানা। মালদার দায়িত্ব পেয়েছেন অরুণাচলের আনন্ত নারায়ণ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির দায়িত্বে রয়েছেন কর্ণাটকের সংগঠক অরুণ বিন্নাডিকে। 

দার্জিলিং ও পাহাড়ি অঞ্চল যা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি।  দার্জিলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারিকে। অন্যদিকে কোচবিহার–আলিপুরদুয়ার বেল্টে আক্রমণাত্মকভাবে কাজ করবেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী। 

আরও পড়ুন- Adhir Ranjan Chowdhury: “কোথাও ১০০, কোথাও ৫০০! SIR নিয়ে তৃণমূলের নতুন ব্যবসা”, অধীরের চাঞ্চল্যকর দাবি

দিন কয়েক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। তিনি বলেন, 'ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে চলবে না, সাধারণভাবে এটা ঠিক। হিন্দি বলয়ের মানুষের ভাবনাচিন্তার সঙ্গে বাংলার মানুষের ভাবনা অন্যরকম। হিন্দি বলয়ের মানুষ যেভাবে জাত বিচার করেন, পশ্চিমবঙ্গে তা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে মানুষ জাতপাত দেখে ভোট দেয় না। পশ্চিমবঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মতো নেতাকে আনা ভুল হয়েছিল। ২০২১-এ আমাদের ক্ষমতায় আসার কথা ছিল, আমরা ভুলের মাশুল দিয়েছি'। এর পাশাপাশি তিনি এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছিলেন, "অবাঙালি নেতা মানেই অযোগ্য নয় । আমি বাংলাভাষী ত্রিপুরায় রাজ্যপাল থাকাকালীন নেপথ্যে দাঁড়িয়ে দেখেছি, এক মহারাষ্ট্রীয়, সুনীল দেওধর, কি করে ২০১৮ সালে বিজেপিকে শূন্য থেকে ক্ষমতায় এনেছিলেন"। 

আরও পড়ুন- Eastern Railway: যাত্রীদের সুবিধার্থে দুরন্ত পদক্ষেপ রেলের, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আনন্দের বন্যা!

tmc bjp