/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/bjp-vs-tmc-singur-issue-mamata-banerjee-2026-west-bengal-election-2026-01-17-18-02-07.jpg)
দু’দশক পর ফের সিঙ্গুরকে ঘিরেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বিজেপি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ফের বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সিঙ্গুর ইস্যু। এক সময় যে সিঙ্গুর আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল, সেই একই সিঙ্গুরকে হাতিয়ার করেই এবার তৃণমূল সুপ্রিমোকে কোণঠাসা করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। 'শিল্পায়নের প্রতীক' হিসেবে সিঙ্গুরকে তুলে ধরে বিজেপির দাবি, ক্ষমতায় এলে বিজেপি টাটাকে আবার সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনবে। এই আবহেই ১৮ জানুয়ারি রবিবার সিঙ্গুরে সভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিলাসবহুল ভ্রমণের এক নয়া অধ্যায়, পাবেন বিমানের মত পরিষেবা, বন্দে-ভারত স্লিপারের ভাড়া কত?
সিঙ্গুর, কলকাতা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, ২০০৬-০৮ সময়কালে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় সংঘর্ষের মঞ্চ ছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার টাটা ন্যানো কারখানা তৈরির জন্য প্রায় ১,০০০ একর উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি আন্দোলন দ্রুত রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেফতার এবং কলকাতায় মমতার ২১ দিনের অনশন সব মিলিয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন তখন উঠে আসে সংবাদ শিরোনামে।
শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে টাটা মোটরস সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটের সানন্দে কারখানা সরিয়ে নিয়ে যায়। সেই সময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রতন টাটাকে ‘ওয়েলকাম’ লেখা একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন বলে পরে নিজেই উল্লেখ করেন। ২০১০ সালে সানন্দে ন্যানো কারখানার উদ্বোধনের সময় মোদী বলেছিলেন, “এক টাকার একটি এসএমএস কী করতে পারে, তা আপনারা দেখছেন।”
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জোরেই ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট জমি অধিগ্রহণকে বেআইনি ঘোষণা করে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে তৃণমূল আজও কৃষকদের অধিকার ও নিজেদের আন্দোলনের নৈতিক জয়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে।
তবে প্রায় দু’দশক পর ফের সিঙ্গুরকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাতে চাইছে বিজেপি। দলের দাবি, সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও রাজ্য শিল্পায়নের বড় সুযোগ হারিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সিঙ্গুরকে ‘বঙ্গের হারানো শিল্পায়নের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, টাটাকে তাড়ানোর দিন থেকেই রাজ্যে শিল্প বিদায় নিয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাকে ফের সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জানুয়ারির মোদীর সভায় সেই কৃষকদের সামনের সারিতে বসানো হবে, যাঁরা একসময় জমি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং এখন শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবি তুলছেন। সিঙ্গুরের যেখানে একসময় ন্যানো কারখানার জন্য জমি চিহ্নিত হয়েছিল, সেখানেই সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির এই প্রচেষ্টাকে ‘রাজনৈতিক নস্টালজিয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি ইতিহাস ও কৃষকদের সংগ্রামকে উপেক্ষা করে পুরনো ক্ষত উসকে দিতে চাইছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, জমি আন্দোলনের সময় বিজেপি নেতারা কোথায় ছিলেন?
সিঙ্গুরে সাধারণ মানুষের মনোভাবও বিভক্ত। কেউ কেউ মোদীর সভাকে কর্মসংস্থান ও শিল্প ফেরানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই অতীত অভিজ্ঞতায় সন্দিহান। বিজেপির কাছে সিঙ্গুর ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনাবিন্দু, আর তৃণমূলের কাছে তা সেই আন্দোলনের স্মৃতি, যা তাদের ক্ষমতায় এনেছিল। এই কারণেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুর আবারও রাজনীতির প্রতীক ও সংঘর্ষের ময়দান হয়ে উঠেছে এবার তৃণমূল বনাম বিজেপি।
“বাংলায় মা-বোনেরা সুরক্ষিত নয়!” বেলডাঙার ঘটনা টেনে রাজ্যকে তীব্র আক্রমণ মোদীর


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us