/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/22/adhir-2025-10-22-18-17-38.jpg)
Adhir Ranjan Chowdhury: প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।
Adhir Ranjan Chowdhury: 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়', রাজ্যে চলমান SIR প্রক্রিয়ার মাঝে একের পর এক বিএলও মৃত্যুর ঘটনায় এভাবেই মমতা-মোদীকে আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। এদিন তিনি বলেন, কেন্দ্র -রাজ্য দুজনের গোঁয়ার্তুমির ফল ভুগছে BLO রা।
বাংলায় SIR নিয়ে তোলপাড়ের মাঝেই একের পর এক বিএলও মৃত্যুর ঘটনায় ছড়িয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। কাজের চাপে ইতিমধ্যে তিন জন বিএলও আত্মঘাতী হচ্ছেন। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X'-এ লিখেছেন গতকাল কৃষ্ণনগরের বিএলও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মমতা লেখেন, "কৃষ্ণনগরে আরও একজন BLO, একজন মহিলা শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে আমি হতবাক। রিঙ্কু তরফদার তার বাড়িতে আত্মহত্যা করার আগে তার সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন।" এর পর, মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে SIR-এর কারণে পশ্চিমবঙ্গে আরও কত মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্টে লিখেছেন, "আরও কত প্রাণহানি ঘটবে? SIR-এর জন্য আরও কত মানুষকে মরতে হবে? এই প্রক্রিয়ার জন্য আমাদের আরও কত মৃতদেহ দেখতে হবে? এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"পাশাপাশি তিনি SIR অবিলম্বে বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন। যদিও এই নিয়ে মমতাকে নিশানা করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এবার বিএলও মৃত্যু নিয়ে গর্জে উঠলেন দাপুটে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।
আরও পড়ুন- ডিআইজির নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, মোটা টাকা প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার সলমান খান
রবিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেন্দ্র - রাজ্য দুজনের গোঁয়ার্তুমির ফল ভুগছে বিএলওরা। রাজ্য সরকার কেন তাদের কর্মচারীদের SIR পর্ব থেকে উইথড্র করে নিচ্ছেন না, কেন বলছেন না আমার কর্মচারীদের নিয়ে SIR নয়। কমিশন-রাজ্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। রাজ্য সরকার যদি মনে করে এই বিএলওদের মৃত্যুর কারণ এসআইআর, রাজ্য সরকার ঘোষণা করুন পশ্চিমবঙ্গে কোন সরকারি কর্মচারী SIR প্রক্রিয়ায় অংশ করবে না। সেটা না করে উনি কমিশনের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। কমিশন রাজ্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে। তার ফল ভুগতে হচ্ছে রাজ্যের নিরীহ সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের"। বিএলও মৃত্যু নিয়ে মমতা-কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানার পাশাপাশি এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করে অধীর বলেন, সারা বাংলা জুড়ে জাল আইডি তৈরি করে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন মাননীয়া। মালদা-মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে সন্দেশখালি, শিলিগুড়ি সর্বত্র অনুপ্রবেশ চলছে অবাধে"।
আরও পড়ুন- তৃণমূলস্তরে ঘাসফুলের মূল উপরে ফেলতে মরিয়া বিজেপি, বঙ্গজয়ের নয়া রণকৌশল কাঁপুনি ধরাবে মমতা-অভিষেককে?
এর আগে এক্স হ্যান্ডেলে মমতাকে নিশানা করে বিএলও মৃত্যুর যাবতীয় দায় রাজ্যের ঘাড়েই চাপিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি লিখেছেন, "রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় BLO-দের মৃত্যুকে নিয়ে যতই নাটকীয় কুম্ভীরাশ্রু ঝরান না কেন, বাংলার BLO-রা জানেন, মানসিক নির্যাতন, চাপ ও ভয় তৈরি করার নেপথ্যের একমাত্র মুখ আসলে তিনিই! পশ্চিমবঙ্গে SIR সম্পর্কিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বহু আগেই তিনি BLO-দের সামনে প্রকাশ্যে হুমকি ছুড়ে দিয়েছিলেন - “ভুলে যাবেন না, আপনারা সবাই কিন্তু রাজ্য সরকারের কর্মচারী।” তাঁর এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তাঁর চাপিয়ে দেওয়া শাসন, দমন আর ভয় দেখানোর রাজনীতি"।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও লিখেছেন, "আজ SIR-এর কাজে যুক্ত বেশিরভাগ BLO দক্ষতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এক প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর বারবারের হুমকি তাঁদের মনে যে আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন যদি দাবি করেন যে BLO-রা মানসিক চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন, তাহলে সেই চাপে ঠেলে দেওয়ার মূল কারণ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তিনি নিজেই। কারণ ২০২১ সালের ২রা মে'র পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রতিটি দিন প্রত্যক্ষ করেছে মমতার লাগামছাড়া প্রতিহিংসা আর নির্মম দমননীতি। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী, মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রতিবাদী মানুষ এমনকি সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত কারোরই রক্ষা নেই তাঁর প্রতিহিংসা ও দমনপীড়নের হাত থেকে।
আরও পড়ুন-SIR পর্ব চলাকালীন খাস কলকাতায় উদ্ধার প্রচুর আধার কার্ড, খবর চাউর হতেই হুলস্থূল
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে সুকান্ত মজুদার লিখেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চান, তা এখন বাংলার মানুষ স্পষ্ট বুঝে ফেলেছে। BLO-দের মৃত্যুকে নিয়ে তাঁর আজকের কান্না তাই শুধু আরেকটি রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়"।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us