/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/durga-2025-11-19-10-08-55.jpg)
Durga Puja: প্রতীকী ছবি।
Durga Puja history: দুর্গাপুজো বাঙালির প্রাণের উৎসব। কিন্তু প্রতি বছর বিসর্জনের সময় যে ধ্বনি সমস্বরে ওঠে, ‘বলো দুগ্গা মাইকি জয়’, তার উৎপত্তি কোথায়, জানেন কি? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ডাক বাঙালির রক্তে মিশে গেলেও এর পিছনে রয়েছে এক বিশেষ ঐতিহাসিক কারণ। সেই নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন।
ঐতিহাসিক নথি বলছে, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর কলকাতায় দুর্গাপূজা ধীরে ধীরে রাজকীয় আকার নিতে শুরু করে। শহরের জমিদার ও ধনী পরিবারগুলো দুর্গাপুজোয় জাঁকজমক ও আড়ম্বড়ের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। রাজবাড়ি থেকে বড়লোক বাড়ি, প্রতিটি পরিবারেই দুর্গাৎসব সামাজিক মর্যাদার পরিচয় হয়ে ওঠে। পরে বারোয়ারি ও সর্বজনীন পুজোর প্রসার বাড়তেই উৎসব আরও জনমুখী হয়ে ওঠে।
সেই সময় থেকেই বিসর্জনের শোভাযাত্রা ছিল চোখ ধাঁধানো। কামান দাগা, নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো, আতশবাজি, আতর দিয়ে ঘর মোছা, সব মিলিয়ে নিরঞ্জনের দিনটি হয়ে উঠত দুর্দান্ত ঐতিহ্যে ভরপুর। বিসর্জনের সময় প্রতিমা বহনের জন্য বিহার থেকে হিন্দিভাষী ভারবাহক বা মুঠেদের ভাড়া করে আনা হতো। এই হিন্দিভাষী ভারবাহকেরাই পুজো মণ্ডপ থেকে প্রতিমা কাঁধে তুলে নদীর ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যেতেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রতিমা বহনের সময় কাঁধের ভার সামলাতে এবং চলার ছন্দ বজায় রাখতে এই মুঠেরা সমস্বরে বলতেন, ‘বলো দুর্গা মাই কি জয়’। এই উচ্চারণে তৈরি হতো এক অদ্ভুত রিদম, যা কেবল ভার কমাত না, শোভাযাত্রার চারপাশে সৃষ্টি করত আধ্যাত্মিক আবহও।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘বলো দুর্গা মাই কি জয়’-এর হিন্দি ধ্বনিগত উচ্চারণ বদলে এসে পড়ে বাঙালির উচ্চারণে—‘বলো দুগ্গা মাইকি জয়’। ধীরে ধীরে তা বাঙালির সংস্কৃতিতে গেঁথে যায় এবং আজ বিসর্জনের মুহূর্তে এই ডাক ছাড়া পুজো যেন কল্পনাই করা যায় না। ঐতিহ্যের এই পরিবর্তনই আজকের পরিচিত আবেগ, ‘বলো দুগ্গা মাইকি জয়!’
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us