/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/bondi-beach-shooting-netanyahu-criticism-australia-policy-2025-12-15-13-48-19.jpg)
রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় 'নায়কে'র খেতাব!কে আহমেদ আল আহমেদ?
Bondi Beach Shooting: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনার পর এক নিরস্ত্র ব্যক্তির সাহসিকতা গোটা দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুলি চলার মাঝেই এক ব্যক্তি দ্রুততার সঙ্গে হামলাকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে কাবু করেন। এই সাহসী পদক্ষেপের ফলেই প্রাণে বাঁচেন বহু মানুষ। রবিবারের এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রায় ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি প্রথমে পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকেন। এরপর সুযোগ বুঝে পেছন দিক থেকে বন্দুকধারীর দিকে দৌড়ে যান। তিনি হামলাকারীর গলা চেপে ধরে তার হাত থেকে রাইফেল কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং পরে সেই বন্দুকই তাক করেন হামলাকারীর দিকেই। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ওই ব্যক্তিকে বাস্তবের ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই সাহসী ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। তিনি ৪৩ বছর বয়সি আহমেদ আল আহমেদ। পেশায় একজন ফল বিক্রেতা। হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনও অস্ত্রচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে তিনি ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যান। গুলিবর্ষণের সময় তিনি নিজেও গুলিতে আহত হন এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতেই তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন- 'বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে', SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে বাংলায় তোলপাড়
সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদের এক আত্মীয় মুস্তাফা বলেন, “উনি এখন হাসপাতালে ভরতি। ভেতরে ঠিক কী অবস্থা আমরা জানি না। তবে আমরা আশা করছি ও সুস্থ হয়ে উঠবে। সে নিঃসন্দেহে একজন নায়ক।” অনলাইনে অসংখ্য মানুষ তার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও আহমেদকে ‘জাতীয় নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইহুদি ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন বন্ডাই বিচে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই হামলা চালানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে শয়ে শয়ে মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এই হামলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলেই এক হামলাকারীর মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬।
আরও পড়ুন-মারাত্মক দূষণের কবলে দিল্লি, একিউআই ৫০০ ছাড়িয়েছে!
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত ছিল বাবা-ছেলের একটি জুটি। নিহত ব্যক্তি ৫০ বছর বয়সি সাজিদ আক্রম এবং তার ২৪ বছর বয়সি ছেলে নাভিদ আক্রম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন ইজরায়েলি নাগরিকও রয়েছেন।
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডাকেন। তিনি বলেন, “আনন্দের দিনে ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানদের উপর এই লক্ষ্যভিত্তিক হামলা আমাদের জাতির হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। এটি ঘৃণা, ইহুদিবিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদের নগ্ন প্রকাশ। ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানদের উপর হামলা মানে গোটা অস্ট্রেলিয়ার উপর হামলা। আমাদের দেশে এই ঘৃণা ও হিংসার কোনো জায়গা নেই।”
আরও পড়ুন- নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত নীতিন নবীন, নির্বাচনী মরসুমকে সামনে রেখে বিরাট কৌশল বিজেপির
এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার কিছু অবস্থান ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে।" তিনি দাবি করেন, "নেতারা নীরব থাকলে এবং কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই বিদ্বেষ আরও ছড়িয়ে পড়ে।" এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us