/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/01/A0phCZX0B1vq6qysJkUN.jpg)
বাজেট নিয়ে কী কী প্রত্যাশা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর?
Union Budget 2026: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাল কেন্দ্র সরকার। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবারই সংসদে পেশ করা হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়ায় বাজেটের দিন পিছোতে পারে, এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও সরকার জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত দিনেই বাজেট পেশ হবে।
আরও পড়ুন-West Bengal Weather: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাংলাজুড়ে, শীতের ঝোড়ো ইনিংস আর কতদিন চলবে?
ক্যাবিনেট কমিটি অন পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স (CCPA) সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চূড়ান্ত করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি। ওই দিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এর পর ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা হবে ইকোনমিক সার্ভে। আগামী অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হবে ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
এখন বড় প্রশ্ন, বাজেটের দিন শেয়ার বাজার খোলা থাকবে কি না। এই বিষয়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, যদি ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ হয়, তবে রবিবার এক্সচেঞ্জ খোলা রাখার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এনএসই জানিয়েছে, সরকারিভাবে বাজেটের সময়সূচি ঘোষণার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এখনও এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
সংসদের বাজেট অধিবেশন দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। প্রথম পর্ব চলবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৯ মার্চ, চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন টানা নবমবারের মতো ইউনিয়ন বাজেট পেশ করতে চলেছেন। এটি হবে স্বাধীনতার পর দেশের ৮৮তম কেন্দ্রীয় বাজেট।
উল্লেখ্য, বাজেট পেশের তারিখ ও সময় অতীতে একাধিকবার বদলেছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় লোকসভায় ইউনিয়ন বাজেট পেশ করা হয়। এর আগে বাজেট ২৮ ফেব্রুয়ারি পেশ হত। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেটের তারিখ এগিয়ে এনে ১ ফেব্রুয়ারি করেন, যাতে বাজেটের প্রস্তাবগুলি ১ এপ্রিল থেকেই, অর্থাৎ নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকে কার্যকর করা যায়। সেই রীতিই এখনও বজায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সংসদে টানা নবমবারের মতো ইউনিয়ন বাজেট পেশ করতে চলেছেন। মোদী ৩.০ সরকারের এটি দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও বেতনভোগী শ্রেণির প্রত্যাশা এবার বিশেষভাবে বেড়েছে। গত বছরের বাজেটে আয়কর কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে করদাতাদের মধ্যে স্বস্তির আশা তুঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে, যা সরাসরি মধ্যবিত্তের উপর প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন-বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়ানোর সম্ভাবনা। বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে বেতনভোগীরা ৭৫ হাজার টাকা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন পান, যেখানে পুরনো ব্যবস্থায় এই অঙ্ক ৫০ হাজার টাকা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে এই ছাড় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে জল্পনা।
এছাড়াও করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের বাজেটে ছাড়-সহ ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত করা হয়েছিল। এবার ধারা ৮৭এ-এর আওতায় ছাড়ের সীমা ১৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লক্ষ টাকা করা হতে পারে, যাতে মধ্যবিত্তদের আরও স্বস্তি দেওয়া যায়।
যাঁরা পুরনো কর ব্যবস্থা বেছে নেন, তাঁদের জন্য ধারা ৮০সি ও ৮০ডি-র সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ৮০সি-র সর্বোচ্চ সীমা বর্তমানে ১.৫ লক্ষ টাকা। বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে এই সীমা ২ লক্ষ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামের উপর করছাড়ের সীমা, অর্থাৎ ধারা ৮০ডি, ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি উঠেছে।
বিনিয়োগকারীদের আরেকটি বড় দাবি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ কর (LTCG) সংক্রান্ত। শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভের করমুক্ত সীমা বর্তমানে ১.২৫ লক্ষ টাকা। এই সীমা বাড়িয়ে ১.৫ লক্ষ বা ২ লক্ষ টাকা করা হলে ক্ষুদ্র ও মধ্যম বিনিয়োগকারীরা বড়সড় স্বস্তি পাবেন বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের। কর কমানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। বহু করদাতা অভিযোগ করেন, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর রিফান্ড পেতে দীর্ঘ সময় লাগে বা টিডিএস মিলিয়ে নিতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। নতুন আয়কর আইনের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান চান সাধারণ মানুষ।
অবসর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বাজেটে নতুন ঘোষণা আসতে পারে। জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা (NPS)-কে আরও আকর্ষণীয় করতে টিয়ার-২ অ্যাকাউন্টে করছাড় দেওয়া বা নিয়োগকর্তার অবদানের উপর ছাড়ের সীমা বর্তমান ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সকলের জন্য সমান করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে সরকার। সব মিলিয়ে বাজেট ২০২৬ মধ্যবিত্ত ও করদাতাদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us