/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/17/burdwan-2025-12-17-10-36-26.jpg)
Purba Bardhaman News: এই সেই মুহূর্ত।
ভরা সভায় প্রিয় মন্ত্রী মশাইয়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কিন্তু তাতে রাজি নাহয়ে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর অনিচ্ছার কথা জানিয়ে দেওয়ায় হলই না উপাচার্যের ইচ্ছাপূরণ। তবে মঙ্গলবারের এই ঘটনায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ। এর আগে তিনি ক্রিকেট তারকা সৌরভ গাঙ্গুলির জীবনে একাধিক' নারীর উপস্থিতি নিয়ে কৌতূক করতে গিয়ে ফাউল করে
বসেছিলেন। তা নিয়েও সমালোচনার ঝড় বয়েছিল।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারি সমিতি মঙ্গলবার রক্তদান শিবিরে আয়োজন করেছিল। রক্তদান শিবিরের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মাইকে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে বসেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ। ইচ্ছা প্রকাশ করেই তিনি তাঁর বক্তব্য থামিয়ে মন্ত্রী মশাইয়ের দিকে এগিয়ে যান। যেতে যেতে তিনি বলেন, “আমি মাননীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু ওনার কাছাকাছি যাবার কোনো উপলক্ষ হয়নি। আজ আমি ওনাকে অনুরোধ করব, আমি ওনার পা ধরে প্রণাম করতে চাই“।
আরও পড়ুন- West Bengal News Live Updates: ‘সবকিছু করার পরও আক্রমণ!’ যুবভারতী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এমন ইচ্ছার কথা শুনে হকচকিয়ে যান মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি তাঁর পা ছুঁয়ে উপাচার্যকে প্রণাম করতে না দিয়ে সুবিদিত সৌজন্যের পরিচয় দেন। একইসঙ্গে তিনি এক অস্বস্তিকর দৃশ্যের হাত থেকে শাসক দলকে বাঁচিয়ে দেন। তাঁর পা উপাচার্য ছোঁয়ার আগেই তিনি উপাচার্যের হাত ধরে নেন উপাচার্যের হাত ধরে নিয়ে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার পরিবারে অনেক শিক্ষক আছে। আমার স্ত্রী শিক্ষক। আমার বৌমা শিক্ষক। আমার বাবাও শিক্ষক ছিলেন। আমি শিক্ষকদের অনেক শ্রদ্ধা করি। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম না করলেও হাত জোর করে করা যায়“। মন্ত্রী মশাইয়ের এই উপদেশের কথা শুনে শেষমেশ উপাচার্য হাত জোড় করেই প্রণাম করেন। পালটা হাত জোড় করে সৌজন্য দেখান মন্ত্রী শোভনদেব।
তবে এমন বিতর্কিত ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। একটি অনুষ্ঠানে ক্রিকেট তারকা সৌরভ গাঙ্গুলির জীবনে একাধিক নারীর উপস্থিতি নিয়ে কৌতূক করতে গিয়ে ফাউল করে বসেছিলেন উপাচার্য। সেবার সোজা ব্যাটে তার এই ঠাট্টাকে রীতিমতো বাউণ্ডারির বাইরে করে দেন সৌরভ। তবে ওই দিন উপাচার্যের ওইসব অবান্তর কথায় রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করে সৌরভ বলেন, তার জীবনে তার মা, স্ত্রী এবং মেয়ের অবদান আছে।
এমন ঘটনা ছাড়াও এই উপাচার্যের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্মে ধর্মের উল্লেখ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কখনো সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে থাকা কুকুরের ইঙ্গিত করা। আবার কখনো রাজ্য সরকারের মনোনীত ' রেজিস্ট্রারকে খারিজ করার অভিযোগও উঠেছে এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে।আবার কখনো রাজ্যের শাসকদলের বিধায়কের ঢালাও প্রশংসা তিনি করেছেন।
এসবের মধ্যেই আবার গণেশ পুজোর দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণেশ পুজো করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ। এর কোনো প্রিসিডেন্স না থাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলে তিনি পাশ কাটান। এরপর মঙ্গলবার একেবারে মন্ত্রীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণামের ইচ্ছা প্রকাশ করে উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ আবার একটি নতুন নজির গড়লেন। আর তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us