/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/caa-2026-01-12-14-26-49.jpg)
CAA: নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট হাতে দাস পরিবারের এক সদস্য।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে কেন্দ্রের বিরোধিতায় এখনও অনড় রয়েছে বাংলার তৃণমূল সরকার। এসআইআর(SIR) লাগু হওয়ার পর সেই
দ্বন্দ্ব আরও প্রকট পৌঁছেছে। এমন আবহের মধ্যেই সিএএ (CAA)-তে আবেদন করে ভারতীয় নারিকত্ব পেলেন বাংলাদেশ থেকে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বড়গাছি গ্রামে এসে বসবার করা দাস পরিবার। সিএএ-তে আবেদন করার অল্প দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে দাস পরিবার বেজায় খুশি। আর তা নিয়েই এখন তৃণমূলকে টিপ্পনিতে বিঁধে চলেছে BJP নেতৃত্ব।
বড়গাছি গ্রামটি পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন। মা,ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে এই গ্রামেই থাকেন ৩৭ বছর বয়সী সবুজ দাস। তাঁর বাবা প্রয়াত হয়েছেন। সিএএ(CAA)-তে আবেদন করলেও ভারতের নাগরিকত্ব মিলবে না, এমন অভিযোগ বাবেবারে করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবুও কাগজে কলমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সবুজ দাস গত বছরের অক্টোবর মাসে সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেন। নিজের পাশাপাশি সবুজ তাঁর মা, ভাই এবং স্ত্রীও যাতে কাগজে কলমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পায় তার জন্য সিএএ (CAA) আবেদন করেছিলেন। তাঁদের নিরাশ হতে হয়নি। এসআইআর (SIR)-এর শুনানি পর্ব চলার মাঝে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পৌঁছে যাওয়ায় দাস পরিবার এখন চরম স্বস্তিতে।
সবুজ দাস জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে তিনি একটি ই-মেল পান। সেই ই-মেল মারফত তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। এর পর অতি উৎসাহিত হয়ে পরের দিনই তিনি কলকাতায় নির্দিষ্ট দপ্তরে হাজির হয়ে যন। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নাগরিকত্ব শংসাপত্রের 'হার্ড কপি' ডাকযোগে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাবে। তবে তাঁকে অনলাইন থেকে নাগরিকত্বের শংসাপত্রের একটি প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-Kolkata News: রেড রোডে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল পণ্যবাহী লরি
তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে যাবেন বলে তাঁকে আস্বস্ত করা হয়েছে। সবুজ দাস সিএএ (CAA)-তে আবেদন করে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছে জেনে বাংলাদেশ থেকে পূর্বস্থলীতে এসে বসবাস করা অন্য বাসিন্দারাও মনে জোর পেয়েছেন। একই পথে হেঁটে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এখন তারাও ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
এলাকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় আদি বাসিন্দা সবুজ দাসের পরিবার। অত্যাচারের ভয়ে ২৬ বছর আগে সবুজের বাবা চাঁদমনি দাস তাঁর স্ত্রী চন্দ্রতারা দাস,এবং দুই ছেলে সবুজ ও তাঁর ভাইকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন। সেই থেকে তাঁরা পূর্বস্থলীর বড়গাছি গ্রামের মাঝের পাড়ায় বসবাস করছেন। তাঁদের ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড হয়েছে। চাঁদমনি দাস প্রয়াত
হয়েছেন।
তবুও বঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই দাস পরিবারের বাকি সদস্যদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক তরজায় কান না দিয়ে সবুজ দাস ও তাঁর পরিবার সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা মাফিক সিএএ (CAA)-তে
আবেদন করে ফেলেন। অবশেষে সিএএ-র দৌলতেই তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে দুশ্চিন্তা-মুক্ত হলেন।
এই প্রসঙ্গে পূর্বস্থলীর বিজেপি নেতা দীপঙ্কর পাল বলেন, “রাজ্যের শাসক দল সিএএ (CAA) নিয়ে লাগাতার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে গিয়েছে। ’ক্যা ক্যা -ছিঃ ছিঃ’ স্লোগান দিয়ে শাসকদল কতই মিটিং-মিছিল করেছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এখন
বুঝতে পারছেন সিএএ (CAA) নিয়ে শাসক দল এতদিন তাঁদের শুধুই ভুল বুঝিয়ে গিয়েছে।" জেলার বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র কটাক্ষ করে বলেন, “আসল ঘটনা হল তৃণমূলের চালাকি ও ভাঁওতা বাংলার মানুষ এখন বুঝতে পেরে গিয়েছে। তাই
তৃণমূলের নেতাদের ’ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’ তে আর কেউ কান দিচ্ছেন না।"
আরও পড়ুন- শ'য়ে শ'য়ে মৃত্যু, বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইরান, আমেরিকাকে পালটা হুমকি খামেনির
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, "আমরা তো চাই সবাই নাগরিকত্ব পাক। কিন্তু বিজেপি বাংলাকে আর বাংলার মানুষকে অপমান আর অবজ্ঞা করছে। সে কারণেই তো আমাদের দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হচ্ছেন।"


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us