/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/highcourt-2025-11-10-15-36-04.jpg)
News in Bengal Live: গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট জানুন।
হাইকোর্টে বিরাট ধাক্কা রাজ্যের। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ উচ্চ প্রাথমিকে ১,৬০০ সুপার নিউমেরারি পোস্ট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে (supernumerary)। এই পদগুলি তৈরি করা হয়েছিল ভোকেশনাল (Vocational) এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন (Physical Education) বিষয়ে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রায়ে উল্লেখ করেছেন, “রাজনৈতিক নৈতিকতার সামনে সংবিধানিক নৈতিকতা কখনও অমূল্য হয়ে যায় না।”
'মোদী কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবেন না', পুতিনের বিস্ফোরক মন্তব্য, নিশানায় কি ট্রাম্প?
২০১৯ সালে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর পর ২০২২ সালে এই অতিরিক্ত পদগুলি তৈরি করে রাজ্য সরকার। হাইকোর্ট রায়ে জানিয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়া প্যানেলের ভিত্তিতে নতুন পদ সৃষ্টি করা যাবে না এবং এই ১,৬০০টি পদকে “অবৈধ” ঘোষণা করেছে আদালত। সরকার আদালতে যুক্তি দিয়ে বলেছিল, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি পূরণের জন্য এই শূণ্য পদ প্রয়োজন, তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে আইনি সীমা অতিক্রম করে কোন রকম নিয়োগ করা যাবে না।
বিচারপতি বসু শুনানিতে বলেন, “মৃত প্যানেলে জীবন সঞ্চার করে তা পুনরায় সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে।” বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে এই পদগুলিতে কোনো নিয়োগ করা যাবে না। যদি নতুনভাবে নিয়োগ করতে হয়, রাজ্যকে নতুন পদ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বাতিল হওয়া ১,৬০০ পদের মধ্যে ৭৫০টি ওয়ার্ক এডুকেশন এবং ৮৫০টি ফিজিক্যাল এডুকেশন বিষয়ে ছিল। এই পদগুলিতে নিয়োগের সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পিটিশনরদের পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামীম বলেন, “ক্যাবিনেট একটি অবৈধ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুধুমাত্র তাদের প্রিয়জনদের চাকরি দেওয়ার জন্য। আমরা বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করেছি, এবং আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।”
মদ বিক্রির প্রতিবাদ করায় হামলা, ধর্ষণের হুমকি, চরম আতঙ্কে মহিলারা
বিতর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে, যখন WBSSC শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০২২ সালের মে মাসে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর রাজ্যের স্কুল শিক্ষা বিভাগ ওয়েটিং ক্যান্ডিডেটদের প্রার্থীদের জন্য ৬,৮৬১টি অতিরিক্ত পদ তৈরি করে। এরপরই ওয়ার্ক এডুকেশন ও ফিজিক্যাল এডুকেশনের পদগুলির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়। নভেম্বর ২০২২-এ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এই পদগুলির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। পরে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, এই সিদ্ধান্তের উপর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই নির্দেশ বাতিল করে বলে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত সাধারণত বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে। তবে অনিয়মিত নিয়োগের তদন্ত চালু থাকবে। মে ২০২৫-এ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পদগুলিতে নিয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রাখে। অবশেষে ডিসেম্বর ২০২৫-এ সিঙ্গেল বেঞ্চ এই অতিরিক্ত পদগুলি বাতিল করে।
মামলায় মূলত প্রশ্ন তোলা হয়, অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ করতে পারে কি স্কুল সার্ভিস কমিশন? অতিরিক্ত শূন্যপদে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ভূমিকা কতটুকু? রাজ্যের ২০১৬ ও ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগ কোন আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে? এই পদগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us