Kalyan Banerjee: ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিল নয়, রায় ঘোষণা হতেই প্রাক্তন বিচারপতিকে নিশানা কল্যাণের, পালটা কি বললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

Kalyan Banerjee: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এক যুগান্তকারী রায়ে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।

Kalyan Banerjee: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এক যুগান্তকারী রায়ে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Subhra Ghosh judge Calcutta High Court Kalyan Banerjee July 2025  ,Justice Suvra Ghosh annoyed Kalyan Banerjee HC remarks,  Calcutta High Court bench reaction to Kalyan Banerjee comment,  Kalyan Banerjee contempt hearing judge Suvra Ghosh remark,শুভ্রা ঘোষ হাইকোর্ট বিচারপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রিঅ্যাকশন,  কলকাতা হাইকোর্ট শুভ্রা ঘোষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য,  বিচারপতি ঘোষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার নিষেধাজ্ঞা মন্তব্য ২৫ জুলাই,  কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হাইকোর্ট অবহেলা শুভ্রা ঘোষ

Kalyan Banerjee: তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Kalyan Banerjee: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে স্বস্তি ৩২,০০০ শিক্ষকের, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ। 

Advertisment

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এক যুগান্তকারী রায়ে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ৩২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায় যে তারা সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখার পক্ষে নয়, কারণ সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত অনিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নয় বছর ধরে যাঁরা শিক্ষকতা করছেন, তাঁদের চাকরি কেড়ে নিলে শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের উপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। ডিভিশন বেঞ্চের মতে, "পদ্ধতিগত অসৎ উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ সেই দিকে ইঙ্গিত করে না। একদল অসফল প্রার্থীকে গোটা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার অনুমতি দেওয়া যায় না। নয় বছর চাকরির পর চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে তা হবে শিক্ষকদের জন্য অসীম দুর্দশার কারণ হবে।"

বাংলা জয়ই পাখির চোখ মোদীর, বঙ্গ বিজেপির নেতাদের 'বিশেষ ক্লাস' প্রধানমন্ত্রীর

Advertisment

লাইভ ল'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ, এই মামলার তদন্তভারপ্রাপ্ত সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) প্রথমে ২৬৪টি নিয়োগে অনিয়ম চিহ্নিত করেছিল, পরে আরও ৯৬ জন শিক্ষকের নাম তাদের নজরে আসে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেয় যে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল করা যেতে পারে না।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা বিচার প্রক্রিয়াকে শ্রদ্ধা করি। আমি খুশি যে আমাদের ভাই-বোনেরা তাঁদের চাকরি ফিরে পেয়েছেন।" অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায় প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে ডিভিশন বেঞ্চের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বিচারপতি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হলে দেশের বিচারব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়।" তাঁর সংযোজন, "সিঙ্গল বেঞ্চ বলেছিল ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু তার স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি কেউ। ন’বছর ধরে চাকরি করছেন শিক্ষকরা। ভাল রায় দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আমরা ডিভিশন বেঞ্চের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিচারপতিদের কাছে কৃতজ্ঞ।" কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "বিচারব্যবস্থায় যাঁরা বিচার করেন, তাঁরা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে, নিজস্ব ভাবনা, নিজস্ব পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করেন, যা আজ ডিভিশন বেঞ্চ করেছে।"

'চাকরি খাওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়, ৩২ হাজারের চাকরি বহাল রাখার রায় ঘোষণা হতেই

প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের এই সিদ্ধান্তে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ডিভিশন বেঞ্চ বিবেচনা করে যে রায় দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই"। তিনি এদিন বলেন, "আজকের এই রায় নিয়ে আমার কোনও মতামত দেওয়ার অধিকার নেই।” “ডিভিশন বেঞ্চ যদি মনে করে, হ্যাঁ এভাবেই মানুষকে রক্ষা করতে হবে, তাহলে ডিভিশন ঠিকই করেছে বলব।” এরপরই প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম যে দুর্নীতি যারা করেছে, চাকরি যেভাবে বিক্রি হয়েছিল, সেই পুরো সিস্টেমটাকেই আমি বিসর্জন দিতে চেয়েছিলাম। তবে ডিভিশন বেঞ্চ যেটা ভাল বুঝেছে তা করেছে।”

অশান্তির আশঙ্কা থাকলে গ্রেফতার করা হোক হুমায়ুন কবীরকে, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

এদিনের রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এর রায় বাঞ্ছনীয় নয়, এই রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারে যারা দুর্নীতি করেছেন তারা আরও উৎসাহিত হবেন। একটা বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাবে দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়। আজকের রায়ে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেছেন বিচাপতিরা, যারা যোগ্য হয়েও চাকরি পান নি সেদিকটা উপেক্ষিত রয়েই গেল"।

তিনি আরও বলেন, "চাকরি প্রার্থীরা ঠিক করবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে যাবে কিনা না। তবে এটা ঠিক একটা অস্থিরতা থেকে বাঁচল সরকার। রায় যারা মানবে না তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চললেও আজকের রায়ে তারা বল পাবে। আজকের এই রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে"।

Meesho IPO–তে SBI Mutual Fundকে বড়সড় বরাদ্দ, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একাধিক বড় বিনিয়োগকারী

Kalyan Banerjee