/indian-express-bangla/media/media_files/6arTyH94i9QJlCpIq8rj.jpg)
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট
WB TET verdict: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিল। এর ফলে বড়সড় স্বস্তি চাকরিরত ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ‘ক্যাশ ফর জবস’ নিয়োগ কেলেঙ্কারি-র অভিযোগের ভিত্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চ ২০২৩ সালে টেট–পাস প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধেই ছিল এই মামলার শুনানি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টেট পরীক্ষায় প্রায় ১.২৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মোট ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, এই নিয়োগের মধ্যে ৩২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় ঘোষণার পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ‘এক্স’–এ লেখেন, “ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। শিক্ষকদেরও শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”
'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ নিয়ে বিতর্ক চরমে! শেষমেষ কী বললেন যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া?
কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জানিয়ে দিল, ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক তাদের চাকরিতে বহাল থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া নিয়োগ বাতিলের রায় খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত জানায় আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলেও এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর চাকরি একসঙ্গে বাতিল করা হলে তাদের পরিবার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিন বিচারপতিরা মন্তব্য করেন,“এই ৩২ হাজার শিক্ষক বহু বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পরিবার–পরিজনের কথা বিবেচনা করেই আদালত চাকরি বাতিল করছে না।”
Meesho IPO–তে SBI Mutual Fundকে বড়সড় বরাদ্দ, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একাধিক বড় বিনিয়োগকারী
২০১৪ সালের টেট ও নিয়োগ বিতর্ক
বিতর্কের শুরু ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা থেকে, যার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ৪২,৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ইন্টারভিউ ছাড়াই প্রার্থী নিয়োগ, নম্বর হেরফেরসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
২০২৩-এ ৩২ হাজার শিক্ষককে একযোগে বরখাস্তের নির্দেশ
২০২৩ সালের মে মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেন। যদিও তখনই শিক্ষকদের বরখাস্ত করা হয়নি। রাজ্য সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে শুধুমাত্র যোগ্য প্রার্থীরাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ডিভিশন বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই
রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই রায়ের বিরুদ্ধে যায় বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে। ডিভিশন বেঞ্চ নিয়োগ বাতিলের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন, তবে নতুন প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেন।
পরে রাজ্য সরকার ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে জানায়, সব পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালত বিষয়টি ফের হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয় এবং ডিভিশন বেঞ্চকে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর মামলাটি বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসে। আজ সেই বেঞ্চের রায়েই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকল।
CV Ananda Bose: অশান্তির আশঙ্কা থাকলে গ্রেফতার করা হোক হুমায়ুন কবীরকে, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
রায় প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ‘এক্স’-এ লেখেন, “ডিভিশন বেঞ্চ আজ যে রায় দিয়েছেন, তার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। শিক্ষকদের জানাই শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে কোনও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হয়নি। পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা থেকেও ওএমআর শিটের কপি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, কয়েকটি “বিচ্ছিন্ন ভুল, অপরাধ বা গাফিলতি” দেখিয়ে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি,“স্বচ্ছ পদ্ধতিতেই আমরা নিয়োগ করি। কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সরকার তা সংশোধনে উদ্যোগী। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে দ্রুত চাকরি পান, তার প্রচেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, এই কয়েকটি ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজকের এই রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মানবিক দিক থেকে বিষয়টা দেখা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। কথায় কথায় চাকরি খেয়ে নেওয়া... চাকরি দেওয়া দরকার। চাকরি খেয়ে নেওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়। আমি আজকের রায়ে খুশি"।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us