/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/mamata-abhishek-2026-02-02-18-18-22.jpg)
Mamata-Abhishek: দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
CM Mamata Banerjee: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) নয়াদিল্লিতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘এসআইআর-প্রভাবিত’ একাধিক পরিবার এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০টি পরিবারকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে।
গত সপ্তাহেই দিয়েছিলেন সময়
উল্লেখ্য গত সপ্তাহেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি পেশায় একজন আইনজীবীও।
আরও পড়ুন- বিরাট বিপাকে হাসিনা! জমি দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ বাংলাদেশের বিশেষ আদালতের
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন, কিন্তু তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক'।
আরও পড়ুন-মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আগেই বড় মোচড়! বাংলা ভাগের দাবিতে সুর চড়ালেন BJP-র সাংসদ
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মানুষ ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতেই ‘এসআইআর-প্রভাবিত’ পরিবারগুলিকে নিয়ে দিল্লিতে আসা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির আইটি সেল হয়ে কাজ করছে’। এসআইআর ইস্যুতে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর তীব্র ভাষায় কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন- সুবিধাভোগী ১ কোটি কৃষক, নারকেল চাষ নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের!
বৈঠক শেষে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অহংকার ও মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এমন আচরণ আগে কখনও দেখেননি।
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেয়। ওই দলে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত ১২টি পরিবারের সদস্যরা।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর-প্রভাবিত যে ১২ জন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন এমন ভোটার রয়েছেন যাঁদের ভুলভাবে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পাঁচজন এমন পরিবারের সদস্য ছিলেন, যাঁদের স্বজনরা এসআইআর নোটিস পাওয়ার পর মানসিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। আরও তিনটি পরিবারের প্রতিনিধিরাও ছিলেন, যাঁদের ক্ষেত্রে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে মৃত্যু হয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি খুবই দুঃখিত। দিল্লির রাজনীতিতে আমি দীর্ঘদিন ধরে আছি। চারবার মন্ত্রী হয়েছি, সাতবার সাংসদ হয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এত অহংকারী ও মিথ্যাবাদী নির্বাচন কমিশনার দেখিনি। আমি তাঁকে বলেছি, আমি আপনার চেয়ারকে সম্মান করি, কারণ কোনও চেয়ারই চিরস্থায়ী নয়। একদিন তো আপনাকেও যেতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে?”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব হলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না দিয়েই। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে একতরফা ও অগণতান্ত্রিক। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া পক্ষপাতদুষ্ট, স্বেচ্ছাচারী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর ফলে বহু বৈধ ভোটারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই গুরুতর উদ্বেগের কথা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানাতেই মুখ্যমন্ত্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রভাবিত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, এসআইআর-এর জেরে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ও চরম মানসিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে অন্তত ১৪০ থেকে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বহু মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও গরিব মানুষদের লক্ষ্য করেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
দিল্লি পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসআইআর-প্রভাবিত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় তিনি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দিল্লি পুলিশ বাংলার মানুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং নজরদারি চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই মামলায় নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পক্ষ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’-এর নামে পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us