/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/census-2027-33-questions-citizenship-clarification-india-2026-01-23-13-44-54.jpg)
২০২৭ সালের আদমশুমারি
Census 2027: ২০২৭ সালের আদমশুমারি ঘিরে দেশজুড়ে প্রস্তুতি শুরু হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর না দিলে নাগরিকত্বে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট করে জানিয়েছে কেন্দ্র, আদমশুমারির সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই।
কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের আদমশুমারির প্রথম ধাপের রূপরেখা প্রকাশ করেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে ‘আদমশুমারি ২০২৭’। এই পর্যায়ে আদমশুমারি কর্মীরা বাড়ির সংখ্যা, আবাসনের ধরন এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দফতরের মতে, এর উদ্দেশ্য দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা।
আরও পড়ুন-বরফের চাদরে কাশ্মীর-মানালি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিতে ভিজল দিল্লি! উত্তর ভারত জুড়ে আবহাওয়ার লঙ্কাকাণ্ড
এবারের আদমশুমারিতে শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনাই নয়, মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তালিকাভুক্ত ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে বাড়িটি পাকা না কাঁচা, মেঝে, দেওয়াল ও ছাদের নির্মাণসামগ্রী, বাড়িতে বসবাসকারী সদস্য সংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পরিবারের প্রধান পুরুষ না মহিলা এবং তিনি কোন সামাজিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত এই সমস্ত বিষয় জানতে চাওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, মানুষের জীবনযাত্রার অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার স্তর মূল্যায়ন করা।
সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদমশুমারিতে পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের সুবিধা আছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকবে। পাশাপাশি পরিবারের কাছে সাইকেল, মোটরবাইক, গাড়ি বা অন্য কোনও যানবাহন রয়েছে কি না, এমনকি খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রশাসনের মতে, এই সব তথ্য ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
আরও পড়ুন-জানুয়ারি কলকাতায় কমল সোনার দাম, সরস্বতী পুজোয় কতটা সস্তা হলুদ ধাতু?
আইন অনুযায়ী আদমশুমারি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার জানালে বা ভুল তথ্য দিলে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি সামগ্রিক পরিকল্পনায়। কোনও এলাকার সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলে রেশন, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে।
নাগরিকত্ব নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। আদমশুমারির প্রশ্নের উত্তর না দিলে কেউ ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাবেন না। নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য পৃথক আইন ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। আদমশুমারির উদ্দেশ্য কারও পরিচয় বা অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়, বরং দেশের মানুষ কী ধরনের পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা।
সরকারের মতে, আদমশুমারিতে সঠিক তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই প্রতিটি এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতা শুধু সরকারের জন্য নয়, গোটা সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য বলে মনে করছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন- পূণ্যার্থীদের জন্য সবথেকে বড় খবর! ১১ দিন আগেই শুরু হতে চলেছে চারধাম যাত্রা


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us