/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/sea-2026-02-02-10-44-53.jpg)
Offbeat sea beaches: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি।
Best beaches near Kolkata: বাঙালির কাছে ওড়িশা মানেই পুরী। কিন্তু ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি নীল দিগন্ত আর শান্ত সমুদ্রের নির্জনতা খুঁজতে চান, তবে আপনার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকত। বিশ্ববিখ্যাত কোণার্ক সূর্য মন্দির থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সৈকতটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কলকাতা থেকে সপ্তাহান্তের ছুটিতে যাওয়ার জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা।
ইতিহাসের পাতায় চন্দ্রভাগা
চন্দ্রভাগা কেবল একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিকতা ও ইতিহাস। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্ব এখানে তপস্যা করে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাই আজও বিশ্বাস করা হয় যে, মাঘ সপ্তমী তিথিতে চন্দ্রভাগার পবিত্র জলে স্নান করলে চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এককালে এখানে চন্দ্রভাগা নদী প্রবাহিত হতো, যা বর্তমানে বালির নিচে বিলীন হয়ে গেলেও এর মাহাত্ম্য কমেনি।
আরও পড়ুন- Garuchira: টুরিস্টদের ভিড় নেই, শুধুই প্রকৃতির রাজত্ব! গারুচিরা, বাংলার এক গোপন হীরের টুকরো
রূপালি বালুচরে প্রকৃতির খেলা
চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকতের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর শান্ত পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা। পুরীর সমুদ্র যেখানে উত্তাল এবং জনবহুল, চন্দ্রভাগা সেখানে শান্ত ও নিভৃত। ভারতের অন্যতম পরিচ্ছন্ন সৈকত হিসেবে এটি ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ (Blue Flag) তকমা পেয়েছে। এখানে সমুদ্রের জল যেমন স্বচ্ছ, তেমনই রূপালি বালুচরটিও বেশ প্রশস্ত।
আরও পড়ুন-Offbeat Destinations: দার্জিলিং-এর দাদাগিরি শেষ! পর্যটকদের নতুন 'ক্রাশ' ডুয়ার্সের এই 'লুকানো মানিক'
ভোরবেলার চন্দ্রভাগা এক মায়াবী রূপ নেয়। দিগন্তরেখা ভেদ করে যখন সূর্য ওঠে, সেই দৃশ্য আজীবন মনে রাখার মতো। ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য এটি একটি স্বর্গরাজ্য। আবার বিকেলের পড়ন্ত রোদে বালুর ওপর বসে ঢেউয়ের আনাগোনা দেখা এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি দেয়।
পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ
চন্দ্রভাগা সৈকতে বিনোদনের কোনো অভাব নেই। পর্যটকদের জন্য এখানে বেশ কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
কোণার্ক ইকো রিট্রিট: শীতের মরশুমে ওড়িশা পর্যটন দপ্তর এখানে বিলাসবহুল তাবু বা গ্ল্যাম্পিং-এর ব্যবস্থা করে। সমুদ্রের ধারে রাত কাটানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্বাদ নিতে বহু মানুষ এখানে আসেন।
লাইট হাউস: সৈকতের পাশেই রয়েছে একটি পুরনো লাইটহাউস। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এর ওপরে উঠলে পুরো সৈকত এবং ঝাউবনের এক অসাধারণ প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।
সামুদ্রিক খাবার: সৈকতের ধারে ছোট ছোট দোকানে টাটকা সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়।
ভ্রমণের সেরা সময় ও পথনির্দেশ
চন্দ্রভাগা যাওয়ার সবথেকে উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। গরমকাল বা বর্ষাকালে আবহাওয়া কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এখানে গেলে 'কোণার্ক নৃত্য উৎসব' দেখার সুযোগও মিলতে পারে।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে আসা পর্যটকদের জন্য হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে ভুবনেশ্বর বা পুরী নামতে হবে। পুরী থেকে চন্দ্রভাগার দূরত্ব মাত্র ৩০-৩৫ কিলোমিটার। সড়কপথে গাড়িতে করে বা অটোতে করে মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। এই মেরিন ড্রাইভ রোডটি নিজেই এক অপূর্ব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যেখানে একদিকে গভীর ঝাউবন আর অন্যদিকে সমুদ্র।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us