/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/sikkim-2026-01-12-13-08-04.jpg)
Offbeat Sikkim: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Sikkim offbeat destination: উত্তর সিকিমের বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় পাহাড়ি জনপদ, চংথাং। লাচেন ও লাচুংয়ের মিলনস্থলে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি শুধু ভৌগোলিক গুরুত্বেই নয়, ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চংথাং যেন পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা এক শান্ত আশ্রয়, যেখানে আধুনিকতার কোলাহল পৌঁছয়নি এখনও পুরোপুরি।
চংথাংয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয়, এখানে মিলেছে তিস্তা ও লাচু নদী। দুই নদীর সংযোগস্থল থেকে উঠে এসেছে কিংবদন্তি ও লোকবিশ্বাসের গল্প। স্থানীয়দের মতে, গুরু পদ্মসম্ভব এখানে কিছুদিন ধ্যান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরেই রয়েছে ‘গুরু লামার পবিত্র পাথর’, যেখানে নাকি আজও তাঁর পদচিহ্ন দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই স্থান এক তীর্থক্ষেত্রের মর্যাদা পেয়েছে।
আরও পড়ুন- Kaluk: পাহাড়ের বুকে নিঃশব্দ স্বর্গ! সিকিমের অফবিট রত্ন কালুক, যেখানে সময় যায় থেমে
গ্রামটি আকারে ছোট হলেও তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পাহাড়, তুষারশিখর আর ঘন বনভূমি চংথাংকে আলাদা মাত্রা দেয়। শীতকালে বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য যেমন মুগ্ধ করে, তেমনই গ্রীষ্মে সবুজে মোড়া উপত্যকা চোখ জুড়িয়ে দেয়। সকালের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো পাহাড় ছুঁয়ে নামার মুহূর্তে চংথাং যেন রূপকথার দেশ হয়ে ওঠে।
চংথাং মূলত একটি ট্রানজিট পয়েন্ট, এখান থেকেই পর্যটকেরা লাচেন, লাচুং, গুরুদংমার লেক কিংবা ইয়ুমথাং ভ্যালির পথে এগিয়ে যান। কিন্তু অনেকেই এই গ্রামটিকে শুধু পথের বিরতি হিসেবেই দেখে যান, অথচ চংথাং নিজেই একটি গন্তব্য হয়ে ওঠার মতো বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। শান্ত পরিবেশ, কম জনসমাগম এবং পাহাড়ি জীবনযাত্রার সরলতা, সব মিলিয়ে অফবিট ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি আদর্শ।
এখানকার বাসিন্দারা মূলত লেপচা ও ভুটিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের জীবনযাপন প্রকৃতিনির্ভর, সরল ও আন্তরিকতায় ভরা। পর্যটকদের প্রতি তাঁদের আতিথেয়তা আলাদা করে মনে দাগ কাটে। ছোট ছোট হোমস্টে, স্থানীয় খাবার আর পাহাড়ি উষ্ণতা, সব মিলিয়ে চংথাংয়ে কাটানো সময় শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন-পাহাড়-নদীর অপরূপ মেলবন্ধন! উত্তরবঙ্গের এপ্রান্তের চিত্তাকর্ষক শোভা ভাষায় প্রকাশ কঠিন
আজও চংথাং আধুনিক পর্যটনের ঝলকানি থেকে অনেকটাই দূরে। আর সেটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। যারা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে একটু নির্জনতা খুঁজছেন, পাহাড়ের আসল স্বাদ নিতে চান, তাঁদের কাছে চংথাং নিঃসন্দেহে এক অনন্য ঠিকানা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us