/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/congress-2025-11-14-16-37-42.jpg)
Bihar election result 2025: বিহারের নির্বাচনে ভরাডুবি কংগ্রেসের।
Bihar elections result: বিহার নির্বাচনের আগে থেকেই কংগ্রেসের বহু নেতা বুঝতে পারছিলেন যে দলের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল নয়। কিন্তু এত বড় বিপর্যয় যে অপেক্ষা করছে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এনডিএ-র ঢেউয়ে উড়ে গেল আরজেডি-নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন। দুপুর ১টা পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন প্রায় হাতেগোনা—৪ থেকে ৫টির মতো। এই ফলাফলে হতবাক রাজ্য থেকে দিল্লি—সর্বত্রই কংগ্রেস শিবির।
দলের ভেতরের একাংশের আগেই ধারণা হয়েছিল, সামাজিক ন্যায়ের রাজনীতি থেকে শুরু করে ‘ভোট চুরি’ প্রচার—কিছুই মাঠে কাজে দিচ্ছে না। কিন্তু ফলাফলের পর সেই সন্দেহ যে এতটাই সত্যি হয়ে যাবে, তা ভাবেননি কেউই। দলের এক শীর্ষ নেতা স্পষ্টই বলেন, “এটা কিছুতেই মিলছে না। আমাদের হাওয়া ভুল ছিল।”
ভরাডুবির ৩ প্রধান কারণ চিহ্নিত করলেন কংগ্রেস নেতারা:
১. সামাজিক ন্যায়ের কৌশল উলটো ফল দিল
উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্ক—যা কিছুটা বাকি ছিল—তা পুরোপুরি সরে গেছে। অন্যদিকে, যাদের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিল দল (পিছিয়ে পড়া ও অতি-পিছিয়ে পড়া শ্রেণি), তারা শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়েছে নীতীশ কুমারকে।
আরও পড়ুন-Tej Pratap Yadav: মহুয়ার ময়দানে লজ্জার হার তেজ প্রতাপ যাদবেরও, চারেই আটকে লালু-পুত্র
২. ‘ভোট চুরি’ প্রচার মাঠে ব্যর্থ
স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং ভোট-চুরি অভিযোগ—রাহুল গান্ধীর বিশেষ প্রচার—মাঠে কোনো সাড়া পায়নি। নেতারা বলছেন, গোড়া থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শুনতেই চায়নি।
৩. এনডিএ ছেড়ে আসা প্রার্থীদের ভরসা হিতে বিপরীত
বিজেপি, জেডিইউ বা এলজেপি থেকে আসা একাধিক ‘দলত্যাগী’ প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া উলটোই ক্ষতি করেছে। কংগ্রেস নেতাদের কথায়, “যারা গতকাল পর্যন্ত এনডিএ নেতাদের সঙ্গে ছবি দিত, তাদেরকেই আমরা টিকিট দিলাম! বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় রইল?”
আরও পড়ুন-Tejashwi Yadav: বিহারের ভার তেজস্বীকে দিলেন না রাজ্যবাসী! নেপথ্যে রয়েছে এই ৩ কারণ
এনডিএ-র সামাজিক সমীকরণের কাছে হার
কংগ্রেস ও আরজেডি চেয়েছিল মুসলিম-যাদব (M-Y) ভোটব্যাঙ্ককে আরও বিস্তৃত করতে। কিন্তু নীতীশের ‘মহিলা ও যুব’ (Mahila–Yuva) সমীকরণ বেশি কার্যকর হয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র প্রথম কিস্তি ১.২১ কোটি মহিলাকে দেওয়া—যা ভোটে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ভুল রাজনৈতিক বার্তা—নেতাদের ক্ষোভ
একজন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা বলেন, “রাহুল আমাদের জেলায় ইবিসি সম্মেলনে এসেছিলেন। কাছেই ব্রাহ্মণ অধ্যুষিত একটি গ্রামে ৫ হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু রাহুল সেখানে গেলেন না। বলা হল—দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ দেখাবে। এভাবে সবাইকে নিয়ে চলা যায় না।”
‘ভোট চুরি’ বাতিক নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে
প্রচারের শেষ মুহূর্তেও রাহুল গান্ধী ভোট চুরির অভিযোগেই আক্রমণ শানিয়েছিলেন। নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এতে বিরোধীদের আত্মবিশ্বাসহীনতার বার্তাই গিয়েছে ভোটারদের কাছে।
রাহুল–তেজস্বীর দূরত্বও ক্ষতি করেছে
সম্মিলিত কৌশল গড়ে না উঠায় ক্ষতি হয়েছে। খুব কম সভায় তাঁরা একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছেন। কংগ্রেস মনে করছিল, তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করলে ‘নন-যাদব’ ভোট কেটে আসতে পারে। কিন্তু আরজেডি তা মানেনি।
এক নেতার কথায়, “সমস্যা অনেক ছিলই। কিন্তু এমন ফল—একেবারেই অপ্রত্যাশিত, বিস্ময়কর।” বিহার কংগ্রেসের কাছে এই ফল শুধু ভরাডুবিই নয়—ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে—এমনই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us