/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/thef-2025-12-29-19-13-04.jpg)
Stolen documents returned: ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত।
চোর মানেই কি কেবল সর্বস্ব লুটে নেওয়া? নাকি অপরাধীর মনের গহিনেও লুকিয়ে থাকে একবিন্দু সৌজন্য? কোচবিহারের এক বাসিন্দার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিল। চুরির দীর্ঘ ছয় বছর পর খোয়া যাওয়া অতিপ্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র ও জন্ম শংসাপত্র ডাকযোগে ফেরত পাঠাল খোদ ‘চোর’। এমন নজিরবিহীন ঘটনায় একদিকে যেমন বিস্ময় ছড়িয়েছে, অন্যদিকে স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবারে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। কোচবিহার শহরের এনএন রোডের বাসিন্দা অর্ধেন্দু বণিক, পেশায় একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। সেই বছর তাঁর বাড়িতে একবার চুরির ঘটনা ঘটে। মূল্যবান জিনিসের পাশাপাশি চোর তাঁর একটি ফাইলও নিয়ে যায়। সেই ফাইলে ছিল অর্ধেন্দুবাবুর জন্ম শংসাপত্র, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, প্যান কার্ড-সহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব আসল সরকারি নথি। সেই সময় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও নথিপত্রগুলোর আর কোনো হদিস মেলেনি। দীর্ঘ কয়েক বছরে সেই আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- West Bengal News LIVE Updates: ফের মেট্রোয় ঝাঁপ, যান চলাচলে বিভ্রাট! ভয়ঙ্কর ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের
শনিবার আচমকাই অর্ধেন্দুবাবুর বাড়িতে একটি পোস্টাল পার্সেল এসে পৌঁছায়। প্রেরকের জায়গায় লেখা ছিল বক্সিরহাটের একটি ঠিকানা, যা অর্ধেন্দুবাবুর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। কোনো সন্দেহজনক বস্তু থাকতে পারে ভেবে প্রথমে প্যাকেটটি খুলতে ভয় পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি সেটি নিয়ে থানায় যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডিং চালু রেখে সাহস করে প্যাকেটটি খুলতেই চমকে ওঠেন তিনি। দেখেন, ভেতরে সযত্নে রাখা আছে তাঁর সেই হারিয়ে যাওয়া ফাইল এবং সমস্ত নথিপত্র।
আরও পড়ুন-SIR-এ নাম নেই? নতুন ভোটার বা নাম বাদ গেলে ফর্ম-৬-এ আবেদন কীভাবে?
বর্তমানে এসআইআর বা বিভিন্ন সরকারি যাচাইকরণের আবহে জন্ম শংসাপত্র ও পুরনো নথির প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ হাড়হাড়হাড়ে টের পাচ্ছেন। অর্ধেন্দুবাবুর ধারণা, হয়তো সেই প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেই চোরের মনে বিবেকের দংশন হয়েছে। তিনি বলেন, “ভাগ্য ভালো যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা-মায়ের নাম থাকায় আমার বিশেষ সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখনকার দিনে এই নথিগুলো নতুন করে জোগাড় করা কতটা কঠিন, তা হয়তো চোর নিজেও বুঝতে পেরেছে। তাই হয়তো সে সৌজন্য দেখিয়ে এগুলো ফেরত পাঠিয়েছে।”
আরও পড়ুন-SIR hearing: ‘কমিশনের জমিদারি মানব না’, SIR শুনানি বন্ধ করে দিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের
বর্তমানে এসআইআর বা বিভিন্ন সরকারি যাচাইকরণের আবহে জন্ম শংসাপত্র ও পুরনো নথির প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ হাড়হাড়হাড়ে টের পাচ্ছেন। অর্ধেন্দুবাবুর ধারণা, হয়তো সেই প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেই চোরের মনে বিবেকের দংশন হয়েছে। তিনি বলেন, “ভাগ্য ভালো যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা-মায়ের নাম থাকায় আমার বিশেষ সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখনকার দিনে এই নথিগুলো নতুন করে জোগাড় করা কতটা কঠিন, তা হয়তো চোর নিজেও বুঝতে পেরেছে। তাই হয়তো সে সৌজন্য দেখিয়ে এগুলো ফেরত পাঠিয়েছে।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us