/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/04/dankuni-blo-assault-illegal-voter-controversy-hooghly-2026-01-04-12-25-37.jpg)
প্রতীকী ছবি
'বাংলাদেশি' শনাক্ত করায় জুতো দিয়ে পেটানো হল মহিলা বিএলওকে, যাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল হুগলির ডানকুনিতে।
সোম থেকেই বঙ্গে পারদ পতন, বইবে প্রবল ঠান্ডার শীতল স্রোত, ফের হাড় কাঁপবে কলকাতার
হুগলি জেলার ডানকুনিতে ‘অবৈধ ভোটার’ চিহ্নিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মহিলা বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-কে শারীরিকভাবে নিগ্রহের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার ডানকুনি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগকারী বিএলও বিমালি টুডু হাঁসদা, যিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বুথের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর দাবি, সংলগ্ন ৬ নম্বর বুথের এক ভোটার সম্পর্কে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়েছিলেন। ওই ভোটার আব্দুল রহিম গাজীকে তিনি ‘অবৈধ ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেন বলেই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
ফের রাজ্যে SIR-এর জেরে মৃত্যু BLO-র! শুনানির নোটিশ পেয়ে মানসিক চাপে রিষড়ায় প্রবীণের মৃত্যতে তোলপাড়
বিমালির অভিযোগ, বিষয়টি জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল রহিম গাজী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করেন। এমনকি গাজীর স্ত্রী তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিমালি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছিলাম যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তার পরই আমাকে আক্রমণ করা হয়।”
বিএলও-র আরও দাবি, আব্দুল রহিম গাজীর নাম ভোটার তালিকায় নেই। তিনি বর্ধমান জেলার এক ব্যক্তিকে অভিভাবক দেখিয়ে নিজের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এই তথ্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরই হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ। বিমালির কথায়, “আমাকে জুতো দিয়ে মারা হয়েছে। প্রতিবেশীরা সব দেখেছেন। আমি পুলিশকে জানিয়েছি।”
তবে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজীর স্ত্রী রানী ও বিমালি কর্মসূত্রে আগেই একে অপরকে চিনতেন এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিবাদ ছিল। রানীর দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই বিএলও ভোটার তালিকার বিষয়টিকে টেনে এনেছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ থামাতে হস্তক্ষেপ করেন। এরপর ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর শেখ আশরাফ হোসেন মধ্যস্থতার চেষ্টা করে উভয় পক্ষকে আলোচনায় ডাকেন। তবে বিমালি সেই বৈঠকে হাজির না হয়ে ডানকুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই প্রসঙ্গে শেখ আশরাফ হোসেন বলেন, “কে বাংলাদেশি আর কে ভারতীয়, তা ঠিক করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের। বিএলও-র কাজ তথ্য দেওয়া। কিন্তু তিনি যেভাবে গিয়ে বিষয়টি সামলেছেন, তা ঠিক নয়।” পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us