/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/darjeeling-kurseong-forest-pair-black-leopard-rare-sighting-2026-01-25-17-05-44.jpg)
কার্শিয়াংয়ের ঘন অরণ্যে রাজকীয় ভঙ্গিতে ক্যামেরায় ধরা দিল ২ ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অরণ্যে ফের এক বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য বন দফতর। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর কার্শিয়াং বনবিভাগের গভীর জঙ্গলে একসঙ্গে দেখা মিলল জোড়া কালো চিতার (Melanistic Leopard)। এর আগে বিভিন্ন সময় পাহাড়ের দুর্গম অরণ্যে একা কালো চিতা বা ব্ল্যাক প্যান্থারের উপস্থিতি ধরা পড়লেও, একই ফ্রেমে দুটি কালো চিতার দেখা পাওয়া কার্যত নজিরবিহীন। রবিবার সকালে কার্শিয়াং বনবিভাগ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই বনকর্মী ও বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্শিয়াংয়ের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই বন্যপ্রাণীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। কালো চিতার উপস্থিতির ইঙ্গিত মেলায় জঙ্গলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে বসানো হয় ট্র্যাপ ক্যামেরা। সেই ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে এই দুর্লভ মুহূর্ত। ছবিতে কুয়াশাচ্ছন্ন ঘন অরণ্যের মধ্যে রাজকীয় ভঙ্গিতে হেঁটে চলতে দেখা যাচ্ছে কুচকুচে কালো রঙের দুটি চিতাবাঘকে।
কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানিয়েছেন, এই ঘটনা বন দফতরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, কার্শিয়াংয়ের গভীর অরণ্যে মেলানিস্টিক লেপার্ডের উপস্থিতি বড় সাফল্য। আগে এককভাবে কালো চিতার দেখা মিললেও এবার একসঙ্গে দুটির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে পাহাড়ি অরণ্যে কালো চিতার সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আশাবাদী বনকর্তারা।
আরও পড়ুন- নেতাজীর চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনে কী জানিয়েছেন মোদী? ভোটের আগে বিরাট তথ্য ফাঁস
একই সঙ্গে দুটি কালো চিতার দেখা মেলায় বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও কৌতূহল বেড়েছে। সলটরি নেচার অ্যান্ড অ্যানিমেল প্রোটেকশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী জানান, একই ফ্রেমে জোড়া কালো চিতার উপস্থিতি অত্যন্ত দুর্লভ। এরা দম্পতি হতে পারে, আবার একই মায়ের দুই শাবক বা ভাইবোন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শরীরের ডোরাকাটা দাগ ও লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে এরা যদি দম্পতি হয়, তাহলে এই বিরল প্রজাতির বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত ইতিবাচক খবর।
উল্লেখ্য, কালো চিতা কোনও পৃথক প্রজাতি নয়। এটি মূলত সাধারণ চিতাবাঘেরই একটি রূপ। জিনগত পরিবর্তনের ফলে এদের শরীরে মেলানিনের আধিক্য দেখা যায়, যাকে মেলানিজম বলা হয়। এই কারণেই এদের গায়ের রং কালো দেখায়। এর আগে কার্শিয়াং এলাকা থেকেই বিরল কালো রঙের বার্কিং ডিয়ার বা কাকর হরিণের দেখা মিলেছিল, যা ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের দৃষ্টান্ত।
বন আধিকারিকদের ধারণা, যদি এই দুই চিতা দম্পতি হয়, তবে তাদের শাবক থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। সে ক্ষেত্রে অরণ্যে কালো চিতার মোট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই আবিষ্কারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে চোরাশিকারিদের হাত থেকে এই অমূল্য বন্যপ্রাণ রক্ষা করা যায়। হিমালয়ের কোলে এই রহস্যময় কালো চিতাদের উপস্থিতি বন দফতরের গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us