দাপুটে বিজেপি নেতা এবার তৃণমূলে, ভোটের ঠিক আগে খেলা শুরু, কপালে ভাঁজ গেরুয়া শিবিরের

ভোটের মুখে হুগলির রাজনীতিতে বড়সড় চমক। চলতি মাসের ১৮ তারিখ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় উপস্থিত থাকলেও, মাসের শেষের দিকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন হুগলির দাপুটে যুবনেতা।

ভোটের মুখে হুগলির রাজনীতিতে বড়সড় চমক। চলতি মাসের ১৮ তারিখ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় উপস্থিত থাকলেও, মাসের শেষের দিকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন হুগলির দাপুটে যুবনেতা।

author-image
Uttam Dutta
New Update
Debabrata Biswas, Baban, Returns to TMC, BJP Defection, Hooghly Politics, West Bengal Political News, TMC Joining, Assembly Election, Political Switch

"ঘর ওয়াপসি"

ভোটের মুখে হুগলির রাজনীতিতে বড়সড় চমক।  চলতি মাসের ১৮ তারিখ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় উপস্থিত থাকলেও, মাসের শেষের দিকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন হুগলির দাপুটে যুবনেতা। ফলে হুগলিতে বিজেপির ভাঙনের চিত্রটা আরও স্পষ্ট হলো। 

Advertisment

হুগলি জেলার জনপ্রিয় যুবনেতা দেবব্রত বিশ্বাস ওরফে বাবন ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। প্রায় এক হাজার সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৈদ্যবাটির তৃণমূল কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে প্রত্যাবর্তন করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই দলবদল হুগলি জেলা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন- ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনে এই ৫ বড় ঘোষণা? ব্রেকিং আপডেট সামনে আসতেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মুখে চওড়া হাসি 

উল্লেখ্য, মগরা-বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল যুবনেতা দেবব্রত বিশ্বাস ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর এই দলবদল তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্বকে চমকে দিয়েছিল। এর আগে তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চুঁচুড়া-মগরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

বুধবার বিকেলে হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অরিন্দম গুঁইনের নেতৃত্বে বৈদ্যবাটির দলীয় কার্যালয়ে দেবব্রত বিশ্বাসের ঘরে ফেরার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সপ্তগ্রাম বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, ধনিয়াখালি বিধায়ক অসীমা পাত্র এবং হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা। তাঁদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন দেবব্রত।

আরও পড়ুন-  ‘মানুষের জিনা হারাম হয়ে যাচ্ছে!’ SIR নিয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষোভ উগরে দিলেন অধীর চৌধুরী 

জেলা রাজনীতিতে দেবব্রত বিশ্বাস তাঁর শক্তিশালী সংগঠন ও অনুগামীদের জন্য বরাবরই পরিচিত ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। তবে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হন। বিজেপিতে থাকার সময় তাঁকে কো-কনভেনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তার জন্য সিআরপিএফও মোতায়েন করা হয়।

সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই দেবব্রত বিশ্বাস পুরোনো দলে ফেরার কথা ভাবছিলেন। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে সেভাবে আর দেখা যাচ্ছিল না। তৃণমূলে ফিরে দেবব্রত অভিযোগ করেন, বিজেপি কখনও তাঁকে আপন করে নেয়নি। তিনি বলেন, “দলের কোনও কর্মসূচিতে আমাকে ডাকত না। আমি কোনও কর্মসূচির ঘোষণা করলেই তার পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হতো।”

এই প্রসঙ্গে বিজেপির হুগলি জেলা নেতা সুরেশ সাউ কটাক্ষ করে বলেন, “এই ধরনের মানুষ কোনও দলের হয় না, কেবল নিজের স্বার্থের কথাই ভাবে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই ওকে প্রার্থী করা হয়েছিল, কো-কনভেনারের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল। এর বেশি আর কী দেওয়া যায়?”

অন্যদিকে, সপ্তগ্রাম বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত বলেন, “আমার সঙ্গে লড়াই করে ও ভালো ফাইট দিয়েছিল। দলের ছেলে দলে ফিরেছে। সাধারণ কর্মীদের মন বোঝে এবং সমাজসেবার কাজ করে।” জেলা তৃণমূল সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেন, “দেবব্রত বিশ্বাস তৃণমূল ঘরানারই ছেলে। তাই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা ওকে দলে ফিরিয়ে নিলাম।”

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দেবব্রত বিশ্বাস প্রার্থী হবেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দল যে দায়িত্ব দেবে, আমি তা মেনে চলব। কী হবে, সেটা দলই ঠিক করবে।”

আরও পড়ুন- SIR-এর ধাক্কায় বাংলা জুড়ে আলোড়ন, মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে বাদ ৪৫ হাজার নাম, তড়িঘড়ি বৈঠকে মমতা

tmc bjp