/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/30/angel-2025-12-30-13-52-20.jpg)
Angel Chakma death: দেরাদুনে জাতিবিদ্বেষগত আক্রমণে নিহত ত্রিপুরার ২৪ বছর বয়সি এমবিএ ছাত্র এঞ্জেল চাকমা।
Northeast student attacked in Uttarakhand: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে জাতিবিদ্বেষগত আক্রমণের কারণে ত্রিপুরার ২৪ বছর বয়সি এমবিএ ছাত্র এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে চলেছে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে।
প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, ত্রিপুরার উনকোটি জেলা থেকে প্রতিভাবান ছাত্র এঞ্জেল চাকমা ২০২৩ সালে এমবিএ পড়তে গেছিল দেরাদুনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।সেখানে তার ছোট ভাই মাইকেল চাকমার সাথে থাকতো সে দেরাদুনের স্থানীয় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক ডিগ্রিতে পাঠরত ছিল মাইকেল।
আরও পড়ুন- Khaleda Zia: গৃহবধূ থেকে ক্ষমতার সিংহাসন! খালেদা জিয়ার জীবন যেন এক রাজনৈতিক উপন্যাস
চলতি মাসের ৯ তারিখে দুই ভাই সঙ্গে আরও কিছু বন্ধুর সাথে দেরাদুন শহরে কিছু কেনাকাটা করতে গেছিল, তখনই কিছু ছেলে তাদের উদ্দেশ্য করে "চাইনিজ, মোমো" ইত্যাদি জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তাদের চিন দেশে চলে যেতে বলে। এই বচসার মধ্যে ছোটভাই মাইকেলকে তাদের হাতে মার খেতে দেখে এঞ্জেল তাকে বাঁচাতে গেলে তার ওপর নৃশংস আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
শক্ত ধাতব 'কাড়া' এবং ছুরি জাতীয় কিছু অস্ত্র দিয়ে তার ঘরে, গলা, মাথা, পিঠ এবং পেটের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।টানা ১৭ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা করার পর শুক্রবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এঞ্জেল।ইতিমধ্যে দেরাদুন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে পাঁচজন ছেলে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে; তাদের হোমে পাঠানো হয়েছে এবং তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে জেল হাজতে রাখা হয়েছে।
এরমধ্যে আরো একজন জড়িত ব্যক্তি নিখোঁজ আছে এবং পুলিশ তার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বাম কংগ্রেস বিজেপি এবং স্থানীয় ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের পক্ষে ঘটনায় অভিযুক্ত সকলের কড়া শাস্তি দাবি তোলা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এঞ্জেল চাকমার উপর আক্রমণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা লিখেছেন তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং পাঁচজন অভিযুক্তের গ্রেফতারি সহ চলমান তদন্তের বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, পাশাপাশি এই ঘটনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেছেন তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে এই মৃত্যু এবং একে কোন ভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ঘটনাটিকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না বলে মন্তব্য করে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন জাতিবিদ্বেষ হিংসাত্মক বক্তব্য এবং উপজাতিদের চিহ্নিত করে আক্রমণের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে আইনি প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক পদক্ষেপ নেবার সময় এসেছে।
মেঘালয়ের শাসকদল এনপিপির সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জেমস সাংমা ঘটনাটিকে জঘন্য হিংসাত্ম আক্রমণ এবং কিছু মানুষের মনে গভীরে প্রথিত জাতিবিদ্বেষের উদাহরণ বলে চিহ্নিত করে দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
মৃতের পরিবারের পক্ষে এঞ্জেল চাকমার মামা মোমেন চাকমা, যিনি ঘটনার পর সবচাইতে প্রথম ত্রিপুরা থেকে দেরাদুনে হাসপাতালে ভর্তি ভাগ্নেকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন ও, বলেছেন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এনজেল ছিল মা-বাবার ভরসার সন্তান। যেদিন সে আক্রান্ত হয়, স্টুডেন্ট লোন নিয়ে বহি রাজ্যে পড়তে যাওয়া এঞ্জেল ঠিক তার পরদিনই তার এমবিএ ডিগ্রির শেষ সেমিস্টার এর পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাস ইন্টারভিউতে সে ফরাসি আন্তর্জাতিক সংস্থায় ভালো চাকরি পেয়েও ছিল।
কিছু ছেলেমেয়ের উন্মুক্ত জাতিবিদ্বেষের কারণে ছবির মতন সুন্দর জীবন এক লহমায় শেষ হয়ে যায় এঞ্জেলের; এই ধরনের ভবিষ্যৎ যাতে আর কারো দেখতে না হয় সেজন্যে ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি, অন্ততপক্ষে যাবজ্জীবন জেল দাবি করেছেন তিনি।
ত্রিপুরার শাসক দলীয় জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের ছাত্র সংগঠন টিআইএসএফ, যুব সংগঠন ওয়াইটিএফ, ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, টিএসইউ, টিওয়াইএফ সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রতিবাদ মিছিল, শোক সভা, মোমবাতি মিছিল, ধর্না ইত্যাদি সংগঠিত করা হয়েছে।
"এঞ্জেল এর মৃত্যু শুধুমাত্র একজন যুবকের মৃত্যু নয়। এই মৃত্যু মানবতার মৃত্যু। বর্তমান ভারতবর্ষে জাতীয় ধর্মের নামে বিভাজনের চূড়ান্ত কুফল এর উদাহরণ। আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি," জানিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র যুব নেতারা। অপরদিকে তিপ্রা মথা দলের ছাত্র নেতা সুরজ দেববর্মা একটি মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করে বলেছেন এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
রাজধানী শহরের উত্তর গেট এলাকায় আজ ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইঞ্জিলের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে একটি মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। মিছিলের শেষে তার মৃত্যুতে যুক্ত সকল অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীর ড. মানিক সাহার উদ্দেশ্যে স্মারকলি জমা দিয়েছেন তারা। এঞ্জেল এর বাড়িতে ছুটে গেছেন স্থানীয় বিধায়ক কোথা প্রাক্ত মন্ত্রী ভগবান দাস, সমবেদনা জানিয়েছেন নিহতের পরিজনদের।
ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের পক্ষে এঞ্জেল চাকমার শেষকৃত্যের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করার জন্যে অনুরোধ করেছেন তিপ্রা মথা দলের প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তার দল তিপ্রা মথাই গত প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে স্বশাসিত জেলা পরিষদের শাসনক্ষমতা রয়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us