/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/27/delhi-excise-policy-case-kejriwal-sisodia-acquitted-rause-avenue-court-2026-02-27-12-40-16.jpg)
সম্মানের লড়াইয়ে জয়ী কেজরিওয়াল
গত তিন বছর ধরে দিল্লির রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করা কথিত মদ নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় অবশেষে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত এই মামলায় রায় ঘোষণা করে জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য ও নথি পেশ করা হয়নি এবং চার্জশিটে একাধিক গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থার দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এদিন আদালতের রায়ে দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। পাশাপাশি আরও ২১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আবগারি নীতিতে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।
আরও পড়ুন- কালই বেরোচ্ছে ফাইনাল ভোটার লিস্ট, তার আগেই SIR ইস্যুতে ফের সুপ্রিম কোর্টে মমতা
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই রায় শুধু আইনি স্বস্তি নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘দিল্লির সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে চিহ্নিত মামলায় আদালত তদন্তের ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আদালত আরও জানিয়েছে, সিবিআই-এর জমা দেওয়া চার্জশিটের বেশ কিছু অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ মেলেনি।
এদিন রায় ঘোষণার পর আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কেজরিওয়াল। তাঁকে সামলাতে দেখা যায় সিসোদিয়াকেও, যিনি নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জয় আম আদমি পার্টির জন্য বড় স্বস্তি হলেও, মদ নীতি মামলা নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন আগামী দিনেও চলবে।
অবশেষে আবগারি নীতি মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এদিন দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত আবগারি নীতি মামলায় বিরাট রায় ঘোষণা করে। এই মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস বলে ঘোষণা করেছে । আদালতের এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ঈশ্বরের চেয়ে কেউ বড় হতে পারে না। আমি বিচারককে তাঁর সাহসের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতার লোভে তাঁদের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে।
সুনীতা কেজরিওয়ালের বক্তব্যে উঠে আসে, সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও ন্যায়বিচারের উপর তাঁদের আস্থা ছিল। তাঁর কথায়, “আমাদের বিশ্বাস ছিল সত্যের জয় হবেই। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আর আজ আদালতের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।” আদালতের এই রায়কে আম আদমি পার্টির জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন- West Bengal Live News: নবান্নে বড় সিদ্ধান্ত: এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে মিলবে সরকারি চাকরি
দিল্লি মদ কেলেঙ্কারি মামলার সম্পূর্ণ টাইমলাইন দেখুন
অক্টোবর ২০২৩: মদ নীতি মামলায় দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে প্রথম সমন জারি করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
২ নভেম্বর, ২০২৩: কেজরিওয়াল প্রথম ইডি সমন উপেক্ষা করে মধ্যপ্রদেশের সিংরাউলিতে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেন।
ডিসেম্বর ২০২৩: কেজরিওয়াল দ্বিতীয় ইডি সমনও উপেক্ষা করেন, এটিকে "অবৈধ এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে অভিহিত করেন।
জানুয়ারি ২০২৪: কেজরিওয়াল তৃতীয় ইডি সমনও উপেক্ষা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন।
১৮ জানুয়ারি, ২০২৪: কেজরিওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার জন্য চতুর্থ সমন জারি করে ইডি।
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪: কেজরিওয়াল ইডির পঞ্চম এবং পরবর্তী ষষ্ঠ সমন উপেক্ষা করেন কারণ তার আইনি দল সমনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
১৬ মার্চ, ২০২৪: ইডির দায়ের করা দুটি অভিযোগে কেজরিওয়ালকে জামিন দেয় দায়রা আদালত। অভিযোগে কেজরিওয়ালকে সমন অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়।
২১শে মার্চ, ২০২৪: কেজরিওয়াল দিল্লি হাইকোর্টে ইডির সমনকে চ্যালেঞ্জ করেন।
২১শে মার্চ, ২০২৪: শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষার জন্য কেজরিওয়াল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
২১শে মার্চ, ২০২৪: নয়টি সমনের মধ্যেও হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর কেজরিওয়ালকে ইডি গ্রেপ্তার করে।
১০ মে, ২০২৪: সুপ্রিম কোর্ট কেজরিওয়ালকে ১ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়, যার ফলে তিনি লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চালাতে পারবেন।
১ জুন, ২০২৪: কেজরিওয়াল দিল্লির একটি আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেন।
২ জুন, ২০২৪: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কেজরিওয়াল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন।
৫ জুন, ২০২৪: দিল্লির আদালত চিকিৎসার কারণে কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন খারিজ করে।
২০ জুন, ২০২৪: দিল্লির আদালত অর্থ পাচার মামলায় কেজরিওয়ালকে নিয়মিত জামিন দেয়।
২১ জুন, ২০২৪: ইডি দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করে, ফলে কেজরিওয়ালের মুক্তির উপর জারি হয় স্থগিতাদেশ।
২৬ জুন, ২০২৪: কেজরিওয়ালকে সিবিআই গ্রেপ্তার করে।
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: সুপ্রিম কোর্ট কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার এবং দিল্লি হাইকোর্টের জামিন প্রত্যাখ্যানকে চ্যালেঞ্জ করে তার জামিন আবেদনের রায় সংরক্ষণ করে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: সুপ্রিম কোর্ট কেজরিওয়ালকে জামিন দিয়ে রায় ঘোষণা করে ।
২২ জানুয়ারি, ২০২৬: দিল্লির একটি আদালত তাকে দুটি ইডি মামলা থেকে খালাস বলে ঘোষণা করে।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: দিল্লির আদালত কেজরিওয়ালকে ক্লিন চিট দেয়।
আরও পড়ুন- লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই SBI-তে অফিসার হওয়ার সুযোগ, জানুন শেষ তারিখ ও আবেদনের পদ্ধতি
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us