Delhi Red Fort Blast:দিল্লির লাল কেল্লা বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন, জঙ্গি হানা মানল সরকার, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন 'মাস্টারমাইন্ড'

Delhi Red Fort Blast:১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী গাড়ি-বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক ডঃ উমর উন নবী।

Delhi Red Fort Blast:১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী গাড়ি-বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক ডঃ উমর উন নবী।

author-image
Sayan Sarkar
New Update
"Delhi blast, Red Fort explosion, Umar Un Nabi, DNA test, Pulwama doctor, Jaish-e-Mohammed, terror module, Faridabad module, ammonium nitrate, Turkey connection, radicalisation, Indian security agencies, Diwali terror plot, JeM handlers

দিল্লির লাল কেল্লা বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

Delhi Red Fort Blast: ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী গাড়ি-বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক ডঃ উমর উন নবী। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।  

Advertisment

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উমর জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) একটি লজিস্টিক মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিস্ফোরণের তার মৃত্যু হয়। হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছিল। বিস্ফোরণের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশেপাশের দোকানগুলির কাঁচ ভেঙে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন- দিল্লির পর এবার বাংলায় উদ্ধার বিপূল পরিমাণ বিস্ফোরক, চূড়ান্ত চাঞ্চল্যে তোলপাড় 

Advertisment

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, উমর বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি কিনেছিলেন হামলার ১০ দিন আগে। বিস্ফোরণের পর গাড়ির কাছে তার দেহাবশেষ পাওয়া গেলেও তখন তা শনাক্ত করা যায়নি। পরে পুলওয়ামায় তার পরিবারের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে তিনি মূল  হামলাকারী।

তদন্তে প্রকাশ হয়েছে যে উমর ফরিদাবাদ, লখনউ এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের মধ্যে পরিচালিত জইশ-ই-মহম্মদের লজিস্টিক মডিউলের অংশ ছিলেন। এই মডিউলে প্রায় ৯-১০ জন সদস্য ছিল, যার মধ্যে ৫-৬ জন চিকিৎসক ছিলেন। তারা তাদের পেশাদার পরিচয় ব্যবহার করে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থ সংগ্রহ করতেন। ৯ নভেম্বর, বিস্ফোরণের ঠিক একদিন আগে, ফরিদাবাদের একটি গুদাম থেকে ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত করা হয় করা হয়। এরপরই ডঃ উমর নিখোঁজ হন। জানা গেছে, তিনি তার পাঁচটি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং অক্টোবর মাসের শেষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি।

 আরও পড়ুন- দিল্লির পর এবার বাংলায় উদ্ধার বিপূল পরিমাণ বিস্ফোরক, চূড়ান্ত চাঞ্চল্যে তোলপাড়  

তদন্তে আরও জানা গেছে, উমর এবং কয়েকজন সহযোগী তুরস্কে গিয়ে তাদের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। হ্যান্ডলাররা 'ডাক্তার মডিউল'কে ভারতের  বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং জনাকীর্ণ এলাকা লক্ষ্য করার নির্দেশ দিয়েছিল। কর্মকর্তারা মনে করছেন, মডিউলের লক্ষ্য ছিল দীপাবলির সময় বড় ধরনের হামলা চালানো।

এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে। ফরিদাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ডঃ শাহীন শহীদকে জইশের মহিলা শাখার প্রধান  হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ডঃ মুজাম্মিল আহমেদ এবং ডঃ তাজামুল আহমেদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

গোটা ঘটনায় উমরের পরিবার বিস্মিত। পুলওয়ামায় তার গ্রামের তার এক আত্মীয় বলেছেন, "সে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল, অধিকাংশ সময় বই পড়ত।" তবে পুলিশের একটি  সূত্র জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিস্ফোরণের দিন বিকেল ৩টে নাগাদ তিনি মসজিদের কাছে গাড়ি পার্ক করেছিলেন এবং সন্ধ্যায় লাল কেল্লার দিকে রওনা হন।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশের এটিএস সহ একাধিক সংস্থা, ফরিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলিতে হাই অ্যালার্ট   জারি করেছে।

আরও পড়ুন-কোথায় কবে কখন হামলার ছক ছিল? দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে চোখ কপালে NIA-এর

এদিকে দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়ঙ্কর গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার (১২ নভেম্বর, ২০২৫) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব পাঠ করার সময় অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “১০ নভেম্বর দিল্লির  লাল কেল্লার কাছে দেশবিরোধী শক্তি একটি ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলা। মন্ত্রিসভা নির্দেশ দিয়েছে যে এই ঘটনার তাৎক্ষণিক ও পেশাদারি তদন্তের। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী এবং তাদের সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনায় সরকারের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য"। তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টরালেন্স নীতি নিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি অটুট।”

 আরও পড়ুন- SBI, HDFC, ICICI থেকে BOB, সমস্ত ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে বিরাট বদল আনল RBI, কেন দ্রুত এই পরিবর্তন? 

delhi Blast