/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/17/tripura-2025-12-17-09-22-33.png)
Dharmanagar delivery boy death: ত্রিপুরার ধর্মনগরে বিক্ষোভ।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর শহরে অনলাইন অর্ডার এর পার্সেল ডেলিভারিকে কেন্দ্র করে একজন ডেলিভারি পরিষেবা প্রদানকারী ও গ্রাহকের মধ্যে বচসা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সেই ডেলিভারি এক্সিকিউটিভকে প্রকাশ্যে কানে ধরে উঠবস করাবার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর সেই যুবকের মৃতদেহ শহরের অনতিদূরে হচ্ছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সেই যুবক সামাজিক মাধ্যমে লজ্জার মুখে আত্মহত্যার পিঠ বেছে নিয়েছিল বলে তার পরিবারের তরফে পুলিশে রবিবার বিকেলেই মামলা করা হয়েছিল।
রাজ্য সরকারের উপরমহল থেকে তার মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি প্রদান করার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজে প্রবল প্রতিবাদের মুখে আজ রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযুক্ত সকলের বাড়িতে রেড করা হচ্ছে এবং খুব তাড়াতাড়ি তাদের সকলকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ বিকেলে ধর্মনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানিয়েছেন "আজ কামেশ্বর গ্রামের (মৃতের গ্রাম) লোকেরা আমার কাছে এসেছিলেন এবং ডেপুটেশন প্রদান করেছেন। এই প্রসঙ্গে আমরা ইতিমধ্যেই ধর্মনগর থানায় দুদিন আগে একটি মামলা রুজু করেছি এবং যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বাড়িতে রেড করা হচ্ছে; এর মধ্যে দুজন মহিলাও রয়েছে"।
অভিযুক্ত দুই মহিলা আপাতত পলাতক রয়েছেন এবং অতিসত্বর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই। সমস্ত আইনি পদক্ষেপ যথাযথভাবে নেয়া হচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের আমরা আজকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি যে খুব তাড়াতাড়ি ফলাফল দেখা যাবে।
"যদিও মৃত ব্যক্তি রাতে একটি গাছে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যায় প্ররোচনার ধারা যোগ করে খুনের ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে। আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নিচ্ছি; আসা করছি খুব তাড়াতাড়ি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হবো," জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানিয়েছেন।
ধর্মনগরবাসী নাগরিক সমাজ আজ পথে নেমে প্রসেনজিতের মৃত্যুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানিয়েছেন। জোরগলায় শোনা গেছে "উই ওয়ান্ট জাস্টিস" (আমরা বিচার চাই) স্লোগান "পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। চার দিন কেটে গেছে কিন্তু এখনো পাঁচ জন অভিযোগ থেকে ধরা যায়নি। এটা কি সম্ভব? একটি গরিব ছেলে মৃত্যু ঘটেছে। এর কোন সুবিচার হবেনা? আমরা বিচার চাই। যতক্ষণ এর সুষ্ঠু বিচার না হবে, আমরা প্রতিবাদ করতে থাকবো," বলেছেন এক প্রতিবাদী যুবক।
আরেকজন বিক্ষোভকারী নাগরিক জানিয়েছেন যে মানুষের মধ্যে প্রসেনজিতের মৃত্যুকে ঘিরে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে এবং এই প্রতিবাদ অনেক বড় আকার ধারণ করতে পারে। তবে দায়িত্ব বা নাগরিক হিসেবে পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজ করার জন্য সময় দেওয়া উচিত এবং তাই ঘটনার গুরুত্ব এবং জনমানুষে তার প্রভাব সম্পর্কে পুলিশকে অবগত করতেই আজ এই বিক্ষোভ প্রাথমিকভাবে সংগঠিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজকের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে পুলিশকে এবং যদি অতিসত্বর দোষীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অক্ষর না হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এই মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছে ধর্মনগর শ্রমিক মনিটরিং সেলের নেতৃত্বরাও। ডেলিভারি কর্মী প্রসিদ্ধি সরকারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল ধর্মনগরে স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ মিনা দেববর্মা সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ত্রিপুরা রাজ্য মজদুর মনিটরিং সেলের নেতৃত্বরা ঘটনার প্রতি বিক্ষোভ জানিয়ে তারা বলেছেন শনিবার যেভাবে প্রসেনজিতের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও সাংবাদিক মাধ্যমে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা চরম নিন্দনীয়। ভুল স্বীকার করার পরও তার উপর হামলা চালানো আইনকে নিজের হাতে তুলে নেবার শামিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
আগরতলায় অনলাইন হোম ডেলিভারি কর্মী অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে প্রসেনজিতের মৃত্যুর জন্যে শোক প্রকাশ করে মোমবাতি মিছিল করে রাজ্য পুলিশের মুখ্য কার্যালয়ের সামনে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যান করে এর উদ্দেশ্যে স্মারকলি স্মারকলিপি জমা করা হয়েছে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ডেলিভারি এক্সিকিউটিভদের নিরাপত্তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে। প্রসঙ্গত:, শনিবার রাতে গাছে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্লুডার্ট এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস সংস্থার ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকার। নিতান্তই স্থানীয় হলেও ঘটনাটি সারা রাজ্যে বিপুল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা গেছে বিভিন্ন। জেলায় জেলায়।
মৃতের বড় ভাই বিশ্বজিৎ সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, একটি পার্সেল ডেলিভারির ফোন কল সংক্রান্ত জটিলতা থেকে গোটা বিষয়টির সূত্রপাত হয়।পার্সেল ডেলিভারির জন্য গ্রাহকের কাছে বারবার ফোন করেও কোন জবাব না পেয়ে অপর একটি ফোন নাম্বার থেকে গলার স্বর বদলে ফোন করেছিল প্রসেনজিৎ। শনিবার সন্ধ্যায় সঙ্গে আরো দুজন যুবক দুজন যুবতীকে সঙ্গে করে সেই মহিলা গ্রাহক প্রসেনজিতের মুখোমুখি হয় এবং ফোন কল সংক্রান্ত বিষয়ে তার ওপর দোষারোপ করে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে প্রসেনজিৎ তার দোষ স্বীকার করে নিলেও প্রকাশ্যে তাকে কারো ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন গ্রাহক ও তার সঙ্গীরা। গোটা ঘটনাটিকে মোবাইলে রেকর্ড করে নেওয়া হয়।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নূতন ধরের কাছ থেকে জানা গেছে গ্রাহকের কাছে ক্ষমা চেয়ে চাইলেও প্রসেনজিৎ কে মারধর করা হয় এবং তার ভিডিও মোবাইলবন্দি করেন গ্রাহক ও তার সঙ্গীরা। ব্যবসায়ী নূতন ধর আরও জানিয়েছেন, মহিলাদের সঙ্গে অপব্যবহার করার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে তার উপোস করার ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হতে পারে বলেও হুমকি দিয়ে যান গ্রাহক মহিলা।
কানে ধরে উঠবস করা সত্বেও সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় এবং তার খবর জানার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসেনজিৎকে আর জনসমক্ষে দেখতে পাওয়া যায়নি। বেপাত্তা হয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে রবিবার ভোর বেলা বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে একটি গাছে ঝুলন্ত তার মৃতদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকেরা।
মৃতের বাবা নেপাল সরকার তিনজন মহিলা ও দু'জন পুরুষের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় খুন ও খুনের প্ররোচনা অভিযোগ এনে রবিবার বিকেলেই মামলা দায়ের করেন। মূল অভিযুক্ত যে মহিলা, তিনি ধর্মনগরে একটি স্থানীয় বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রবল বিক্ষোভের মুখে গতকাল তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বেসরকারি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us