/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/dhenki-tradition-poush-parbon-purba-bardhaman-villages-2026-01-14-20-43-26.jpg)
প্রযুক্তি নির্ভরতাকে দূরে ঠেলে সাবেকি ঢেঁকির কদর আজও অমলিন
বর্তমান যুগে কৃষি থেকে রান্নাঘর সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। তবু বাংলার গ্রামজীবনে আজও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি সাবেকি ঢেঁকির কদর। রাজ্যের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলায় এখনও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বহু গ্রামীণ মহিলা। পৌষ সংক্রান্তির প্রাক্কালে তাই জেলার রায়না, খণ্ডঘোষ, জামালপুর-সহ একাধিক গ্রামে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ঢেঁকিতে চাল ভাঙার চিরচেনা শব্দ। ঢেঁকিতে ভানা চালের গুঁড়ো আর খেজুর গুড় মিলিয়ে তৈরি পিঠে-পুলিতে আগামী কয়েকদিন মাতোয়ারা থাকবে গ্রামবাংলা।
এক সময় পৌষ মাস পড়লেই গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ঢেঁকিতে চাল ভাঙার ধুম পড়ে যেত। সেই চালের গুঁড়ো দিয়েই তৈরি হতো নানান রকমের পিঠে-পুলি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে, ফলে ঢেঁকি অনেক জায়গায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অনেকেই এখন চাল গুঁড়ো করতে মিলের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবুও তার মাঝেই কিছু গ্রামে আজও পুরনো প্রথা বজায় রেখে ঢেঁকিকে আগলে রেখেছেন গ্রামবাসীরা।
Madhyamik 2026: মাধ্যমিকে জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষায় ভালো ফল করতে চাইলে পড়ুন এই সাজেশন
জামালপুর ব্লকের শিয়ালী ও কোড়া গ্রাম তারই উদাহরণ। এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা পিঠে-পুলির জন্য যন্ত্রে ভাঙা চালের গুঁড়োর পরিবর্তে ঢেঁকিতে ভানা চালকেই প্রাধান্য দেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো দিয়ে পৌষ পার্বণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গ্রাম দু’টির মহিলারা। শুধু নিজেরাই নন, আশপাশের গ্রামের মানুষদের চাল গুঁড়ো করে দিয়ে সামান্য হলেও উপার্জনের পথও তৈরি করছেন তাঁরা। জেলার আরও কিছু প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন একই ছবি ধরা পড়ছে।
West Bengal weather: মাঘের শুরুতেই ফের তাণ্ডব দেখাবে শীত! হুড়মুড়িয়ে নামবে পারদ, কাঁপবে গোটা বাংলা
শিয়ালী গ্রামের গৃহবধূ কাকলী কোলের কথায়, “ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো দিয়ে বানানো পিঠে-পুলির স্বাদ আলাদা। এই চাল অনেকদিন ভালো থাকে।” একই গ্রামের আর এক গৃহবধূ কল্পনা কোল জানান, “আমাদের গ্রামে এখন মাত্র একটি ঢেঁকি আছে। পৌষের আগে সেই ঢেঁকিতেই চাল ভাঙাতে আসেন গ্রামের বহু মহিলা। উপার্জনের আশায় এই সময় ঢেঁকির মালিক পরিবারের পুরুষরাও কাজে হাত লাগান।” তাঁদের মতে, খেজুর গুড় আর ঢেঁকিতে ভানা চালের পিঠে-পুলি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন করে তুলে ধরে।
সিঙ্গুরে ফের টাটা? মোদীর সভার আগে সুকান্তর আশ্বাসে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
বুধবার শিয়ালী ও কোড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক প্রান্তে মাটির দাওয়ায় বসে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করার কাজে ব্যস্ত মহিলা ও পুরুষরা। যন্ত্র ও স্মার্টফোনের দাপটের যুগে এই দৃশ্য যেন বিরলই বলা যায়। একই ছবি দেখা গেছে জেলার গোপালপুর দাসপাড়াতেও। এসব দৃশ্যই প্রমাণ করে, কিছু মানুষের উদ্যোগেই কাঠের তৈরি সাবেকি ঢেঁকি আজও গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যায়নি।
SIR ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য, মমতার হুঁশিয়ারির পরই 'অ্যাকশনে' তৃণমূল বিধায়ক


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us