/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/14/dilip-ghosh-invited-to-pm-modis-rally-2025-07-14-20-17-09.jpg)
রাজনীতিতে ফের সক্রিয় রাজ্য বিজেপির অন্যতম 'ডাকাবুকো' নেতা দিলীপ ঘোষ
Dilip Ghosh: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের বৈঠকের ঠিক পরদিনই রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। তবে কি বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ফের সক্রিয় হতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ? বঙ্গ রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘন্টার বেশি সময় বৈঠক করেন বর্ষীয়াণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের দীর্ঘদিনের মেদিনীপুর কেন্দ্র ছেড়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ার পর, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য রাজনীতির ময়দান থেকে কিছুটা নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন দিলীপ ঘোষ।
তবে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্যের তাঁর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। অনেকেরই ধারণা, রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত করতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন দিলীপ ঘোষ।
এর আগে বুধবার সল্টলেকের একটি হোটেলে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অমিত শাহ। ওই বৈঠকে বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক, প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে দিলীপ ঘোষ লেখেন, “২০২৬ সালের বাংলা বিধানসভা নির্বাচন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও দাবি করেন, “গত নির্বাচনে আমাদের লড়াই বাংলার মানুষের কাছে বিজেপিকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। আজ বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।”
উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি, ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮টি। একইভাবে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে ২০২১ সালে বিজেপি পায় ৭৭টি আসন, যখন তিনি রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অমিত শাহ বলেছেন, পুরোপুরি কাজে লাগতে হবে।” অপর দিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতির কথায়, "দিলীপ ঘোষকে মাঠ জুড়ে খেলানো হবে"।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ দিলীপ ঘোষ সল্টলেকের বিজেপি দফতরে পৌঁছান এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। নিজের নতুন ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি সবসময়ই দলের সঙ্গে ছিলাম। কোনও পদে না থাকলেও দল যে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করব।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের জয়ী কেন্দ্র মেদিনীপুর ছেড়ে বর্ধমান–দুর্গাপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়ার পর গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে বিজেপির সামনের সারির রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন দিলীপ ঘোষ।
এমন পরিস্থিতিতে সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় দিলীপ ঘোষকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে এমন জল্পনাই এই সাক্ষাতের পর নতুন করে জোরদার হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি, দুর্গাপুরে বর্তমান রাজ্য সভাপতি একসঙ্গে রাজনৈতিক সভা করবেন দিলীপ। দিলীপের ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য বলেন, “তিনি বাড়িতে বসে থাকার লোক নয়।”
প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে জানালেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ের গুরুত্ব তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, মানুষের হয়ে সরাসরি লড়াই করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। খড়গপুরের সঙ্গে তাঁর আবেগ জড়িত বলেও উল্লেখ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, খড়গপুরই তাঁর পছন্দের কেন্দ্র এবং সেখান থেকেই তিনি ভোটে লড়তে চান।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারি থেকে বেড়ে যাচ্ছে সিগারেটের দাম! আইটিসি-গোডফ্রে শেয়ারে চাপে
আরও পড়ুন-আজ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস! ২৮ বছরে জোড়াফুল! ক্ষমতার পথে দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us