/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/20/dipu-2025-12-20-15-23-47.jpg)
Bangladesh mob lynching: হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে খুনের পর তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং জীবিকার তাগিদে ময়মনসিংহে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন কারখানা শ্রমিক ছিলেন। ময়মনসিংহ শহরের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা বাজার’-এ প্রকাশিত স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, কারখানা চত্বরে দীপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ছড়াতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দীপুকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দীপুর দেহ ফেলে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
বাবার বর্ণনায় ভয়াবহ রাত
সংবাদসংস্থা এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপু চন্দ্র দাসের বাবা রবিলাল দাস জানান, সামাজিক মাধ্যমে প্রথমে ঘটনার কথা জানতে পারেন তাঁরা। তিনি বলেন, “ফেসবুকেই প্রথম খবর পাই। পরে লোকজন বলতে শুরু করে, আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। আধঘণ্টা পরে আমার ভাই এসে জানায়, ওকে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।”
রবিলাল দাস আরও বলেন, “ওর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা ছিল বিভীষিকাময়।”
আরও পড়ুন-Khaleda Zia: খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আপডেট, কী জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক?
সরকারের নিন্দা, তবে পরিবারের আক্ষেপ
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, “নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনও জায়গা নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের রেহাই দেওয়া হবে না।”
তবে নিহতের বাবা রবিলাল দাস জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে সরাসরি কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন-Imran Khan: 'দেশে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে', মুনিরের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন ইমরান খান
৭ জন গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪ অভিযানের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলেন, মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী, নিজুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন (৩৮) ও মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।
তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ
নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিন অভিযোগ করেছেন, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছিল। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি দাবি করেন, এক মুসলিম সহকর্মীর সঙ্গে তুচ্ছ বিবাদ থেকেই দীপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।
তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, দীপু ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর উপার্জনের উপর নির্ভর করতেন প্রতিবন্ধী বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান।
নিন্দার ঝড়
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তিনি একে “মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ” বলে অভিহিত করেন। অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us