‘স্যার সহযোগিতা করেছিলেন, কেন সরানো হল জানি না!’ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার বদলির পিছনে কি সাপ লুডো?

এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার পদ থেকে প্রদীপ মিত্রের সরে যাওয়া এবং দেবাশিস ভট্টাচার্যের পুনরায় পদপ্রাপ্তি ঘিরে সরগরম প্রশাসনিক মহল।

By: Kolkata  Updated: July 19, 2019, 06:31:13 PM

“সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানি না, তবে স্যার (প্রদীপ মিত্র) সে সময় খুব সহযোগিতা করেছিলেন। কেন পদ থেকে সরানো হল জানি না”, রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার পদ থেকে প্রদীপ মিত্রকে অব্যাহতি দেওয়া প্রসঙ্গে এমন প্রতিক্রিয়াই জানালেন এনআরএস ডাক্তার নিগ্রহকাণ্ডে আন্দোলনকারী এক জুনিয়ার ডাক্তার। এরপরই তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ওঁর শারীরিক অবস্থার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।” এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার পদ থেকে প্রদীপ মিত্রের সরে যাওয়া এবং দেবাশিস ভট্টাচার্যের পুনরায় পদপ্রাপ্তি ঘিরে সরগরম প্রশাসনিক মহল। প্রশাসনের অন্দরে শোনা যাচ্ছে, রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা পদ নিয়ে চলছে ‘সাপ লুডোর খেলা’। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্রকে। সে জায়গায় ফের নিয়ে আসা হয় দেবাশিস ভট্টাচার্যকে। উল্লেখ্য, রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি এনআরএস ডাক্তার নিগ্রহকাণ্ডে জট কাটাতে প্রদীপ মিত্রের মাধ্যমে জুনিয়র ডাক্তারদের চার প্রতিনিধিকে নবান্নে ডেকে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু প্রত্যেকবারই ‘ব্যার্থ’ হয়েছিলেন তিনি। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সাতদিন ধরে জট যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছে, স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে কান পাতলে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। অবশেষে ১৭ জুন নবান্নের তরফ থেকে আসা চিঠিকে কেন্দ্র করে প্রদীপ মিত্র এনআরএস-এর ‘জেনারেল বডি’র সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ডাক্তাররা নবান্নে আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হন। সূত্রের খবর, এনআরএসকাণ্ডে প্রদীপ মিত্রের এই ভূমিকায় অখুশি সরকার।

আরও পড়ুন: মমতা-জুনিয়র ডাক্তার বৈঠক ইতিবাচক, একনজরে এনআরএস কাণ্ড

এদিকে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলকাণ্ডের সময় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় দেবাশিস ভট্টাচার্যকে। সে সময় তাঁর ‘কার্যকারিতা’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চ পদস্থ কর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-কে বলেন, “কীভাবে বদলি হচ্ছে তা আমরাই বুঝতে পারছি না। কোন যোগ্যতায় পদে আসীন হন, আবার সেই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, ফের কেন ফিরিয়েও আনা হয়, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না”।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার পদ থেকে প্রদীপ মিত্রকে অব্যাহতির কারণ হিসাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথাই সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। প্রদীপ মিত্রর সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি, রিসার্চ’ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পুরানো পদ ফিরে পেয়ে দেবাশিস ভট্টাচার্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the West-bengal News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Director of health education pradip mitra sacked from post

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement

ট্রেন্ডিং
BIG NEWS
X