/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/16/domkol-2025-12-16-17-44-20.jpg)
Domkal political controversy: শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর।
ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। নিজের দপ্তরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির খোদ সভাপতি শাহানা বিশ্বাস। বিস্ময়ের বিষয়, এই অভিযোগ বিরোধীদের বিরুদ্ধে নয় বরং শাসকদলেরই কয়েকজন সদস্যার স্বামী ও সহকারী সভাপতির বিরুদ্ধে।
সভাপতির অভিযোগ, সহকারী সভাপতি আরাফাতন মণ্ডল-সহ কয়েকজন সদস্যার স্বামী নিয়মিত পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতেন। অফিসে বসে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে কটূক্তিও করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাজকর্ম ও পরিষেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি বিষয়টি জানিয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই ডোমকল জুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক শোরগোল। অভিযোগপত্রে সভাপতি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ডোমকলের বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে সভাপতির কাছ থেকে এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল এবং তা যথাযথ জায়গায় পাঠানো হয়। তবে পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন সভাপতি শাহানা বিশ্বাস। তাঁর কথায়, বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির সকলেই একসঙ্গে আছেন এবং কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন-Messi visit Kolkata chaos: যুবভারতী কাণ্ডে তদন্তের ঝড়, একের পর এক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
এখানেই বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। সভাপতি আরও দাবি করেন, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক দপ্তরের কোনও এক আধিকারিকের প্ররোচনায় তিনি ওই অভিযোগ করেছিলেন। সেই কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ মানতে নারাজ সহকারী সভাপতির স্বামী এনায়েতুল্লাহ মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, তিনি কেবল স্ত্রীকে অফিসে পৌঁছে দিতে যেতেন। কটূক্তি বা আড্ডার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, যার প্রমাণ সভাপতি নিজেই দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। উল্টে তিনি অভিযোগ করেন, সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবাদেই তখন সদস্যরা একজোট হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন-SIR List: ভোটার লিস্টে নাম নেই? ফর্ম ৬ জমা দিয়ে কীভাবে ফের তালিকায় নাম তুলবেন জানুন
আর এক সদস্যার স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষও একই সুরে বলেন, স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করতেই তিনি অফিসে যেতেন। সবটাই ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং এখন তা মিটে গিয়েছে বলেই দাবি তাঁর।
তবে এই ঘটনায় শাসকদলের অন্দরেই অস্বস্তি স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতি এবং ডোমকলের তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগকে ঘিরে কতটা চাপের মুখে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে এই ঘটনা ঘিরে ডোমকলের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড, সভাপতি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে। এই ঘটনায় কে কী বললেন, তা নিয়েই এখন ডোমকল জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us