/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/dooars-2026-01-24-15-36-47.jpg)
Offbeat Destinations in North Bengal: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত।
Best places to visit in Dooars: ডুয়ার্সের অরণ্য আর পাহাড়ের সন্ধিস্থলে লুকিয়ে থাকা এক মায়াবী গন্তব্য হল ফাগু। ডুয়ার্স বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে গরুমারা বা জলদাপাড়ার জঙ্গল, কিন্তু ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যারা নির্জনতায় দু-দিন কাটাতে চান, তাদের জন্য কালিম্পং জেলার এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি যেন স্বর্গোদ্যান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ফাগু চা বাগান এলাকাটি ইদানীং পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রিয় অফবিট গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
পাহাড় আর চা বাগানের মিতালি
ডুয়ার্সের মালবাজার থেকে গরুবাথান হয়ে পাহাড়ের সর্পিল রাস্তা ধরে এগোলেই পৌঁছানো যায় ফাগু-তে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হল বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত চা বাগান। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যে ঘেরা এই চা বাগান আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সুপ্রাচীন বাংলোটি পর্যটকদের কয়েক দশক পিছিয়ে নিয়ে যায়। পাহাড়ের ঢালে থরে থরে সাজানো সবুজ চা গাছ আর তার ওপর দিয়ে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘের ভেলা দেখে মনে হয় যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
দেখার কী আছে?
ফাগুর সবথেকে বড় পাওনা হল এখানকার নির্জনতা। বাংলোর বারান্দায় বসে এক কাপ গরম চায়ে চুমুক দিয়ে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখান থেকে ডুয়ার্সের সমভূমি আর তিস্তা নদীর রুপোলি রেখা স্পষ্ট দেখা যায়। যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা স্থানীয় চা বাগানে ঘুরে বেড়াতে পারেন বা পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ট্রেকিং করতে পারেন।
আরও পড়ুন-Dhuluk: অফবিট পাহাড়ি স্বর্গ ধুলুক: অপরূপ-অসাধারণ ছোট্ট গ্রামের জাদুতে মুগ্ধ পর্যটকরা
কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
চেল নদী: পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা এই নদীর পাড়ে পিকনিক বা কিছুক্ষণ বসে থাকা মনকে প্রশান্তি দেয়।
গরুবাথান: ঐতিহাসিক ডালিম দুর্গ বা দামসাং ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ দেখার জন্য এখান থেকে যাওয়া যায়।
ঝালং-বিন্দু: ফাগু থেকে গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসা যায় ভারত-ভুটান সীমান্তের ঝালং ও জলঢাকা নদীর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কেন যাবেন ফাগু?
ফাগুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর পরিবেশ। এখানে নেই কোনো শপিং মলের কোলাহল বা গাড়ির হর্নের শব্দ। পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজই এখানকার সঙ্গী। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে মাথার ওপর মনে হয় যেন নক্ষত্রের মেলা বসেছে। স্থানীয় নেপালি ও লেপচা সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়া যায় এখানকার মানুষের আতিথেয়তায়।
কীভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেন বা বিমানে শিলিগুড়ি (NJP বা বাগডোগরা) পৌঁছানোর পর সেখান থেকে গাড়িতে ফাগু যেতে সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা। এনজেপি থেকে সেভক রোড হয়ে বা মালবাজার হয়ে গরুবাথানের রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায়। মালবাজার থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩২ কিমি।
সেরা সময়
বর্ষাকাল বাদে বছরের যেকোনো সময় ফাগু মনোরম। তবে শীতের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বসন্তে চা বাগানের নতুন কুঁড়ি আর পাহাড়ি ফুলের মেলা ফাগুকে আরও রঙিন করে তোলে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us