/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/village-2026-01-14-09-41-33.jpg)
Suntalikhola Dooars: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
offbeat village in Dooars: ডুয়ার্সের বুকে লুকিয়ে থাকা এক শান্ত স্বর্গ, সুনতালীখোলা। পর্যটকদের ভিড় থেকে বহু দূরে, প্রকৃতির কোলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট গ্রামটি যেন সময়ের স্রোতের বাইরে থাকা এক টুকরো পৃথিবী। পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে চলা স্বচ্ছ নদী, চারপাশে ঘন সবুজ অরণ্য আর দূরে নীলচে পাহাড়, সব মিলিয়ে সুনতালীখোলা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অপূর্ব গন্তব্য।
আলিপুরদুয়ার জেলার এই গ্রামটি মূলত ডুয়ার্স অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে পৌঁছতে হলে প্রথমে যেতে হয় আলিপুরদুয়ার কিংবা জয়ন্তী হয়ে। সেখান থেকে সরু পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোলেই চোখে পড়বে ছোট্ট নদীর ধার ঘেঁষে সাজানো কয়েকটি কটেজ আর স্থানীয় বাসিন্দাদের টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি। শহরের কোলাহল এখানে পৌঁছয় না বললেই চলে। সকাল শুরু হয় পাখির ডাকে, আর সন্ধ্যা নামে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে।
আরও পড়ুন- Chungthang: সিকিমের হৃদয়ে এক লুকোনো রত্ন চংথাং! আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া চিনুন পাহাড়ি জীবন
সুনতালীখোলার মূল আকর্ষণ তার নদী। পাহাড়ি ঝরনার জল বয়ে আসা এই নদীর স্বচ্ছতা এমন, যে তলার পাথর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। গ্রীষ্মে পর্যটকেরা নদীর ধারে বসে পা ভিজিয়ে সময় কাটান, কেউ কেউ সাহস করে নেমে পড়েন জলে। বর্ষায় নদীর রূপ বদলায়, জলস্রোত তখন শক্তিশালী, গর্জন শোনা যায় দূর থেকেই। সেই সময় প্রকৃতির রুক্ষ সৌন্দর্য নতুন করে মুগ্ধ করে দর্শকদের।
গ্রামটির আশপাশে রয়েছে ঘন অরণ্য। মাঝে মাঝেই দেখা মেলে হরিণ, বুনো শুয়োর কিংবা নানা রঙের পাখির। ভাগ্য ভালো হলে দূর থেকে হাতির দলও চোখে পড়তে পারে। তাই এখানে আসা মানেই প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, কিন্তু সেটাই যেন আশীর্বাদ, ডিজিটাল দুনিয়া থেকে খানিকটা দূরে থাকার সুযোগ মেলে।
আরও পড়ুন-Lingtam: মনের শান্তি খুঁজছেন? ছবির মতো সাজানো লিংটাম গ্রামে প্রকৃতির কোলে রিসেট করুন জীবন!
স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন সহজ ও সরল। অধিকাংশ মানুষ চা-বাগান কিংবা বনঘেঁষা কাজে যুক্ত। পর্যটকদের জন্য এখন কিছু হোমস্টে ও ইকো-কটেজ গড়ে উঠেছে। এখানকার খাবার সাধারণ হলেও স্বাদে অনন্য, ভাত, ডাল, স্থানীয় শাকসবজি, আর পাহাড়ি ঝরনার জলে রান্না করা তরকারির আলাদা এক ঘ্রাণ আছে।
যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাঁদের জন্য সুনতালীখোলা আদর্শ জায়গা। এখানে নেই বড় বাজার, নেই চটকদার বিনোদন। আছে শুধু সবুজের শান্তি, নদীর কলকল শব্দ আর পাহাড়ের নীরব উপস্থিতি। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইলে ডুয়ার্সের এই অফবিট গ্রাম নিঃসন্দেহে হতে পারে এক অনন্য ঠিকানা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us