রাজ্যের উদাসীনতায় মুখ্য সচিবকে কড়া চিঠি, নবান্ন-কমিশন সংঘাত ফের সপ্তমে?

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর-পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর-পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
West Bengal news, বাংলা খবর, WB updates, Kolkata news, বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, SIR controversy, Special Intensive Revision, ভোটার তালিকা সংশোধন, সাহার আলী মণ্ডল মৃত্যু, BJP West Bengal, Nitin Naveen West Bengal visit, রাজ্য বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, Mamata Banerjee, রাজ্য রাজনীতি, Purulia news, Chandrakona case, Kolkata Book Fair 2026, Jungle Safari Siliguri, Malda news, Floods West Bengal, ভুতনি বাঁধ নির্মাণ, Traffic jam birth incident Murshidabad, Lionel Messi statue Kolkata, Diego Maradona statue Kolkata, ED I-PAC raids, Suvendu Adhikari HC protection

নবান্ন-কমিশন সংঘাত ফের সপ্তমে?

ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে নাম সংযোজনের অভিযোগে অভিযুক্ত চার রাজ্য সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

Advertisment

নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর-পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযুক্ত আধিকারিকরা হলেন বারুইপুর-পূর্ব ও ময়না কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও বিপ্লব সরকার এবং সহকারী ইআরও তথাগত মণ্ডল ও সুদীপ্ত দাস।

আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিরাট ফাঁপরে শাসকশিবির, নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূল বিধায়কের কোটি কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

এর আগে নির্বাচন কমিশন ওই চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েই এদিন মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

সেই নির্দেশের পরও এফআইআর দায়ের না হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজ্য সরকারের কাছে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের সম্পূর্ণ নথি চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে, ইসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যেভাবে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থেকে রাজ্য, তা নিয়মবিরুদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন-  শীতের ছন্দপতন! সরস্বতী পুজোর সকালে কপালে ঘাম জমবে? জানুন লেটেস্ট ওয়েদার আপডেট  

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, দুজন ইআরও (ERO) ও দুইজন এইআরও (AERO)-র বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইতে হবে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে। পাশাপাশি, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিভাগীয় তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত নথি চার্জশিট, অভিযুক্তদের জবাব, তদন্ত রিপোর্ট, তদন্তকারী আধিকারিকের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন ইআরও ও এয়ারোদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। তবে তার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্য সরকার বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। রাজ্যের দাবি ছিল, বিভাগীয় তদন্তে তিন আধিকারিককে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একজনের ক্ষেত্রে সামান্য গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় কেবলমাত্র সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে I-PAC নিয়ে প্রকাশ্যে 'চাঞ্চল্যকর' তথ্য, দেশজুড়ে তোলপাড়  

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ এখনও বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে, যে আধিকারিকরা বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তাঁরাও এবার কমিশনের নজরে। 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার পর চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। শুরুতে নবান্ন কোনও পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করলেও, তৎকালীন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে তলব করে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয় কমিশন। পরে রাজ্য সরকার ওই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করলেও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে এবং কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই যেহেতু বিভাগীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাই সেই সিদ্ধান্ত কমিশনের চোখে অকার্যকর বলে গণ্য হবে। এছাড়া, কমিশন মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে এই প্রক্রিয়াগত গাফিলতির জন্য দায়ি আধিকারিকের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা নিতে হবে এবং কেন কমিশনের নির্দেশ মানা হয়নি, তার স্পষ্ট কারণ জানাতে হবে।

আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি, নজরদারিতে AI স্মার্ট গ্লাস, মুহূর্তে চিনিয়ে দেবে অপরাধীকে 

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই নির্দেশে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই এসআইআর (SIR) ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব। 

election commission West Bengal SIR 2025