/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/eci-rejects-mamata-allegations-sir-meeting-delhi-police-banga-bhavan-2026-02-02-20-41-24.jpg)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিবৃতি দিয়ে জানালো দিল্লি পুলিশ
মমতার অভিযোগ খারিজ করল নির্বাচন কমিশন, এসআইআর নিয়ে বৈঠকে মমতার বিরুদ্ধেই ‘অশোভনীয় আচরণ’-এর পাল্টা দাবি ইসিআইয়ের।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ সোমবার খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর নিয়ে বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন, অশোভনীয় আচরণ করেছেন, টেবিল চাপড়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন’।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ইসিআই সূত্র জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনে গিয়ে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তোলে। তার উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন বজায় থাকবে এবং কেউ আইন নিজের হাতে নিলে কমিশনের হাতে থাকা ক্ষমতা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসিআই সূত্রের আরও দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার ভদ্র ও সংযত আচরণ বজায় রাখলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বৈঠকে অশোভনীয় আচরণ করেন। কমিশন সূত্রের খবর, তিনি ‘মিথ্যা অভিযোগ তোলেন, টেবিল চাপড়ান এবং বৈঠক অসম্পূর্ণ রেখেই বেরিয়ে যান’।
নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়কেরা নিয়মিতভাবে নির্বাচন আধিকারিকদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করছেন। এমনকি এসডিও বা বিডিও দপ্তরে থাকা ইআরও (Electoral Registration Officer) অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি কমিশনের।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আধিকারিকদের উপর কোনও রকম চাপ, বাধা বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক দিকেও একাধিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছে ইসিআই। কমিশনের দাবি, বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) প্রাপ্য সম্মানিক সম্পূর্ণভাবে এখনও মেটানো হয়নি। একজন বিএলও-র জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার টাকার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দ্রুত বকেয়া মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে নিযুক্ত ইআরও ও এএইআরও-দের অনেকেই নির্ধারিত পদমর্যাদার নন। ২০ জানুয়ারি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব চাওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মাত্র ৬৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে এসডিও বা এসডিএম পদমর্যাদার অফিসারকে আরও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই রাজ্য সরকার তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজারভারকে বদলি করেছে। ২৭ জানুয়ারি ওই বদলি নির্দেশ বাতিলের অনুরোধ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি বলে দাবি।
এছাড়া চার জন নির্বাচন আধিকারিক দু’জন ইআরও, দু’জন এএইআরও এবং এক জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে কমিশন। কমিশনের দাবি, তাঁরা আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের সঙ্গে লগ-ইন তথ্য ভাগ করে ডেটা সুরক্ষা নীতি লঙ্ঘন করেছেন।
এর আগে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দিল্লির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতায় এমন ‘অহংকারী ও মিথ্যাবাদী’ নির্বাচন কমিশনার তিনি আগে দেখেননি। মমতার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হচ্ছে এবং ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথমার্ধে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগেই দেশজুড়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
এদিকে এসআইআর- এর ফলে প্রভাবিত পরিবারগুলিকে রাজধানীতে এনে হয়রানি করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ সোমবার খারিজ করে দিল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের বাইরে যে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে নিয়মমাফিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেড-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ীই প্রয়োজনীয় সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে এদিনই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লিতে আসা এসআইআর-প্রভাবিত পরিবারগুলির উপর দিল্লি পুলিশ ‘অত্যাচার’ চালাচ্ছে। তবে এক প্রেস বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের কোনও কর্মী বঙ্গভবনের ভিতরে প্রবেশ করেননি। কারও যাতায়াতেও কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলে দাবি পুলিশের। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বঙ্গভবনে থাকার বিষয়টি আগাম জানানো হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশ জানায়, সেই তথ্য পাওয়ার পরই চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডে অবস্থিত বঙ্গভবনে ব্যাপক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও বলা হয়েছে, সারা বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সহায়তা নেওয়া হয় এবং বঙ্গভবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন সমর্থক দিল্লিতে এসেছেন এবং তাঁরা দক্ষিণ দিল্লি, নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অবস্থান করছেন। সেই সব স্থানে ভিভিআইপি ও শীর্ষ নেতাদের যাতায়াতের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সংসদের বাজেট অধিবেশন চলার কারণে দিল্লি জুড়ে, বিশেষ করে সংসদ ভবনের ভিতরে ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের দাবি,রাজধানীতে সব ভিআইপি-র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হোটেল ও অতিথিশালায় নিয়মিত তল্লাশি এবং ব্যক্তিদের যাচাই করা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি দিল্লি পুলিশের।
আরও পড়ুন- "মমতার নির্দেশেই ভোটারদের হয়রানি!" বিস্ফোরক শুভেন্দু, চাইলেন আধিকারিকদের জেল


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us