কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন, IPAC-এর বিরুদ্ধে 'বিস্ফোরক' অভিযোগ ইডির

কলকাতা হাইকোর্টে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইডির আবেদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED।

কলকাতা হাইকোর্টে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইডির আবেদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Enforcement Directorate raids, illegal sand mining West Bengal, Kolkata money laundering, Sheikh Zahirul Ali, Jhargram sand business, Behala sand trade, CM Mamata Banerjee corruption allegations, central agency investigations, illicit funds tracking, illegal mining operations,বালি পাচার

IPAC-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ইডির

কলকাতা হাইকোর্টে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক) সংক্রান্ত মামলায় 'বিস্ফোরক' দাবি করল ইডি। সংস্থার অভিযোগ, হাওলা মারফত প্রায় ২০ কোটি টাকা কলকাতা থেকে গোয়ায় আই-প্যাকের দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ইডি জানিয়েছে, এই অর্থ ২০২১–২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রচারের খরচ বাবদ ব্যবহার করা হয়েছে। 

Advertisment

ইডি হাইকোর্টে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছে, অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ছ’টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা গোয়ায় পাঠানো হয়। সংস্থার দাবি, এই বিপূল পরিমাণ অর্থ পশ্চিমবঙ্গের কথিত কয়লা পাচার থেকে অর্জিত ‘অপরাধলব্ধ আয়’, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে গোয়ায় পাঠানো হয়। যদিও এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ট্রাম্পের ৫০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি, অস্থির বাজার, রূপা ২.৬০ লাখ পার, সোনার দামও আকাশছোঁয়া

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইডি জানিয়েছে তদন্তে নয়াদিল্লির একটি এনবিএফসি সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টরের নামও সামনে এসেছে।   ওই ব্যক্তি ‘মুন্না’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ। পরে মুন্না অন্য এক হাওলা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেন কলকাতার একটি হাওলা ফার্মে।

ইডির দাবি, ওই হাওলা ফার্মের ম্যানেজার তাঁর বয়ানে স্বীকার করেছেন যে ২০২১–২২ সালে গোয়ায় নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আদালতে ইডি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ও তার সিস্টার কনসার্ন গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় আই-প্যাকের জন্য ইভেন্ট ও রাজনৈতিক প্রচার সংক্রান্ত কাজ সামলাচ্ছিল। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সেই সময় আই-প্যাকের কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর প্রতীক জৈন গোয়ায় সংগঠনের অপারেশন দেখভাল করছিলেন।

এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইডি গত ৮ জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। এর মধ্যে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাসভবনেও অভিযান চালানো হয়।  ইডির আরও অভিযোগ, এই হাওলা লেনদেনের টাকা অনূপ মাঝি ওরফে লালার নেতৃত্বাধীন কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। 

ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইডির আবেদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED। জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি আর্টিকেল ৩২-এর অধীনে একটি আবেদন দায়ের করেছে সর্বোচ্চ আদালতে। আবেদনপত্রে ED দাবি করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকে অভিযান চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ এনেছে ইডি। পাশাপাশি ইডি এখন মামলাটির সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে ED গত পরশু সকাল থেকে আই-প্যাকের অফিসে ও সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে রেড করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযানের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। ED বলেছে, এটা সরাসরি তদন্তে হস্তক্ষেপের সামিল। যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। 

উল্লেখ্য, অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে এর  আগে ED এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল। তবে গতকাল হাইকোর্টে শুনানির সময় তীব্র হট্টোগোলের কারণে মামলা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত হয়। এরপর ED এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এজেন্সি দাবি করেছে, সংস্থার তদন্তের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে এবং সিবিআইকে দিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট পিটিশন দাখিল করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বলেছে, ইডি যদি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে, তবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত। ক্যাভিয়েট পিটিশন হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আদালতকে পূর্বে জানানো হয় যে, কোনো জরুরি আবেদন বা মামলা দায়ের হতে পারে, যাতে কোনও একতরফা আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।

বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আই-প্যাক অভিযানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তদন্ত সংক্রান্ত বিরোধ আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইডি ও রাজ্য সরকারের উভয়ই সুপ্রিম কোর্টে মামলা নিয়ে অপেক্ষা করছে, যার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক এবং আইনি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। 

ED I-PAC