রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই আইপ্যাকে অভিযান? তৃণমূলের অভিযোগে কী জানালো ইডি?

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে চালানো তল্লাশি নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই করা হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে চালানো তল্লাশি নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই করা হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
ED raid I-PAC, coal scam West Bengal, ED TMC conflict, Mamata Banerjee ED raid, I-PAC ED search, Pratik Jain ED raid, Bengal coal smuggling case, Anup Maji coal scam, Eastern Coalfields illegal mining, hawala transaction coal scam, ED statement on I-PAC, ED denies political motive, Mamata Banerjee allegations ED, TMC vs ED news, BJP reaction on ED raid, Shamik Bhattacharya statement, Suvendu Adhikari reaction, ED raid Kolkata Delhi, I-PAC office search, ED seizure documents controversy, investigation obstruction allegation, West Bengal political news today, Kolkata High Court ED case, I-PAC moves High Court, TMC files petition against ED, election strategy documents seizure, money laundering case Bengal, PMLA case West Bengal, West Bengal breaking political news

মমতার বিরুদ্ধে 'নথি ছিনতাইয়ের' অভিযোগ ইডির

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে চালানো তল্লাশি নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই করা হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, এটি আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি নিয়মিত তদন্তের অংশমাত্র।

Advertisment

আরও পড়ুন-IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED 

ইডি জানিয়েছে, ২০২০ সালে অনুপ মাজি ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সিবিআই যে এফআইআর দায়ের করেছিল, তার ভিত্তিতেই তারা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, অনুপ মাজি পশ্চিমবঙ্গের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর আওতাধীন এলাকা থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করে বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলার কারখানা ও শিল্প তালুকে তা সরবরাহ করত। এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি হাওয়ালা চক্র, যার মাধ্যমেই কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

ইডির দাবি, এই হাওয়ালা চক্রের সঙ্গে আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাউডন স্ট্রিটে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন গোটা প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। তবে সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস 'ছিনিয়ে' নিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী আই-প্যাকের দপ্তরেও যান, সেখানেও পুলিশ কর্মীরা জোরপূর্বক তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি ইডির। 

এই ঘটনার ফলে তদন্ত গুরুতরভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলেও ইডি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তল্লাশির কড়া সমালোচনা করে ইডির পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁর ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছেন।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের মনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন-পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক

শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, রাজ্যে প্রতিটি তদন্ত আদালতের নির্দেশে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে এইভাবে ফাইল ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। তাঁর অভিযোগ,মুখ্যমন্ত্রী অপরাধীদের এবং নিজের দলকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, তদন্তে এইভাবে হস্তক্ষেপ করা মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো অভ্যাস। তাঁর মতে, এই ঘটনা রাজ্যে আইনশাসনের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

আই-প্যাক নিয়ে ইডি-তৃণমূল সংঘাত পৌঁছল হাইকোর্টে

তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযানের বিতর্ক এবার কলকাতা হাইকোর্টে গড়াল। আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবন এবং সংস্থার অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নথিপত্র 'ছিনিয়ে' নিয়ে যান, এই  অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইডি এবং আই-প্যাক পৃথকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যে ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইডির দাবি, প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইডি অভিযোগ করেছে, সরকারি তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযান বাংলার কয়লা খনি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তের অংশ।

আরও পড়ুন- “পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না”, I-PAC দফতরে ED হানায় রেগে অগ্নিশর্মা মমতা!

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চে পৃথক একটি আবেদন দায়ের করেছে। দলের বক্তব্য, ইডির এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তদন্তের আওতার বাইরে। তৃণমূলের দাবি, যে সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলি একান্তই দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। যার মধ্যে রয়েছে ভোটের প্রচার কৌশল, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, গবেষণামূলক তথ্য, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক নথি।

তৃণমূলের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, এই নথিগুলির সঙ্গে ইডি যে অপরাধের তদন্ত করছে বা কোনও অর্থপাচারের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর আওতায় এই নথি বাজেয়াপ্ত করার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। দল আরও অভিযোগ করেছে, ইডি আসলে অজুহাত দেখিয়ে বেআইনিভাবে তৃণমূলের ভোটার তালিকা, নির্বাচনী পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কৌশলের হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই। এর মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। 

তৃণমূল কংগ্রেস আদালতের কাছে ইডির পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করার পাশাপাশি সমস্ত গোপনীয় দলীয় নথি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছে।
এর পাশাপাশি, আই-প্যাকও আলাদা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রশান্ত কিশোর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ইডির তল্লাশির উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে। উল্লেখ্য, দিনের শুরুতেই ইডি কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করে দাবি করে, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। এই পাল্টা আইনি লড়াইয়ের ফলে আই-প্যাককে ঘিরে ইডি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।

আরও পড়ুন- রাজ্যপালকে সরাসরি খুনের হুমকি, ইডি অভিযানের পাল্টা আজ প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী

bjp ED mamata I-PAC