প্রশান্ত কিশোরের ছায়াসঙ্গী থেকে মমতাকে 'ঢাল', কে এই প্রতীক জৈন? কেন ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী?

ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি । আইপ্যাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আজকের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা।

ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি । আইপ্যাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আজকের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
ED raid Kolkata, Pratik Jain IPAC, Mamata Banerjee ED protest, centre state clash West Bengal, IPAC office ED search, Bengal assembly election politics, Mamata Banerjee on ED action, political strategist Pratik Jain, central agencies controversy Bengal, SIR voter list controversy

প্রশান্ত কিশোরের ছায়াসঙ্গী থেকে মমতাকে 'ঢাল', কে এই প্রতীক জৈন? কেন ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী?

ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি । আইপ্যাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আজকের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা। কলকাতায় আই-প্যাকের ডিরেক্টর ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত উপস্থিতি পুরো ঘটনাটিকে সাধারণ তদন্তের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিষয়টি কেবল আইনি তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়, এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে।

Advertisment

জমে যাচ্ছে বাংলা! সর্বকালীন রেকর্ড ভাঙার মুখে এবারের শীত? শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কোন কোন জেলায়?   

কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের টানাপোড়েন নতুন নয়। সেই আবহেই তদন্তস্থলে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখছে। শাসক দলের দাবি, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের অভিযান কোনওভাবেই কাকতালীয় নয়। ফলে বিষয়টি দ্রুত আইনি পরিসর ছাড়িয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈন রাজনৈতিক কৌশল জগতে পরিচিত একটি নাম। ২০১৩ সালে প্রশান্ত কিশোর ‘সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স’ নামে যে সংস্থা গড়ে তোলেন, সেটিই পরবর্তীতে আই-প্যাক বা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি হিসেবে পরিচিত হয়। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রতীক জৈন, ঋষিরাজ সিং এবং বিনেশ চন্দেল যুক্ত ছিলেন। প্রশান্ত কিশোরের পর এই তিনজনই আই-প্যাকের মাথা হিসেবে কাজ করছেন।

"তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিকল্পনা হাইজ্যাক",আইপ্যাকে ইডি অভিযান নিয়ে অমিত শাহকে নিশানা মমতার

পাটনার বাসিন্দা প্রতীক জৈন আইআইটি বোম্বে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আই-প্যাকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ডেলয়েট ইন্ডিয়ায় বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি সক্রিয় না হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনে প্রতীক জৈনের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তিনি একাধিকবার নবান্নে গিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আই-প্যাক শাসক দল ও প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দফতরের সঙ্গে আই-প্যাকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়। বিধানসভা ভিত্তিক সমীক্ষা থেকে শুরু করে প্রার্থী বাছাই বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আই-প্যাকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ইডির অভিযান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবন ও অফিসে একযোগে তল্লাশি চালায়। সূত্রের খবর, কয়লা পাচারের পুরনো মামলা ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। তদন্তকারী দল নথিপত্র যাচাই, ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। যদিও ইডি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের  বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে অভিযানের সময় ও ব্যাপ্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে উপস্থিতিকে 'অস্বাভাবিক' বলেই  মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি বিরল ঘটনা। অনেকের মতে, এটি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গে সিবিআই ও ইডির পদক্ষেপ ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে।

ভোটের মুখে বঙ্গ BJP-র মাস্টারস্ট্রোক! সংগঠনে বিরাট রদবদল! বড় দায়িত্বে সৌমিত্র, আর কারা কোন পদে?

ইডির অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে দলের আইটি দফতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে দুর্বল করা। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ছাড়াই দলীয় নথি ও তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হলে সেগুলি অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যায়।

একই সঙ্গে তিনি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একদিকে SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, তিনি আগেই এই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন। সেই কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য ও হার্ড ডিস্ক নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার কোনও প্রচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ঘটনা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে, যেখানে আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের সংঘাত আরও তীব্র আকার নেবে।

শতাব্দী প্রাচীন পুরসভায় শ'য়ে শ'য়ে কর্মী ছাঁটাই, নিয়োগ করল কে? বিরাট মন্তব্যে তোলপাড় ফেললেন মহুয়া

mamata I-PAC