/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/26/egg-price-rise-impact-on-bakery-business-krishnanagar-2025-12-26-16-10-55.jpg)
ডিমের দাম বাড়ায় আগুনে দাম কেকের, ব্যাবসা না হওয়ায় দোলাচলে বেকারির মালিকরা
ডিমের দাম ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কেকের চাহিদা নিয়ে দোলাচলে বেকারির মালিকরা। খোলা বাজারে পোলট্রি ডিম বিকোচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা জোড়ায়।পরিবহন সহ একাধিক কারণে দাম বেড়েছে। এই অবস্থায় প্রভাব পড়েছে ক্রিসমাসের কেক মরসুমে। শহরের বেকারিগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা এই সময়টা নাওয়া-খাওয়ার ভুলে কাজ করছে। কেকের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে ধুঁকতে থাকা কিছু বেকারি আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে বেকারির মালিক একাধিক কর্মিকে ছাঁটাই করেছে। কোন রকমে বেকারি শিল্পকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
কিন্তু ছোট খাটো বেকারিগুলোতে এই ক্রিসমাসের মরসুমে সপ্তাহে ২৫ কুইন্ট্যাল ময়দা, ৮ টিন তেল, ১০ টিন ডালডা, ৮০ কেজি মাখন লাগে। বড় বেকারিগুলোতে আরও বেশি কাঁচামাল প্রয়োজন হয় । এক সময় কৃষ্ণনগরে ২০ টা'র বেশি বেকারি ছিল। পরে সংখ্যাটা কমে যায়। কমে দাঁড়ায় ১৮ টি বেকারি। করোনার মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে যায়। ধুঁকতে থাকা গোটা দশেক বেকারি গত দুবছর ধরে ক্রিস মাসের মরসুমে কেককে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তাই শহরের বেকারিগুলোতে এখন ম ম করছে কেকের গন্ধ। বর্ধিষ্ণু কৃষ্ণনগরে বেকারির কেকের চাহিদা তাই রয়েছে। এই অবস্থায় বেকারি শিল্প একলাফে অনেকটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এই সময়টায় কেকের সরঞ্জাম জোগাড়, কেকের ছাঁচ নামানো, মোড়ক সহ একাধিক চিন্তাভাবনা বেকারির মালিকদের থাকে। কৃষ্ণনগর ও এই মফস্বলের আশপাশ এলাকায় এই সময় কেকের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, আরশিপাড়া-১, আরশিপাড়া-২, ডন বসকোর বাচ্চু কলোনির মতো এগারোটি পাড়ায় খ্রীস্টীয় ভক্তরা বেশি পরিমাণে আছেন।
প্রায় ৫৫০০-৭৫০০ খ্রীস্টীয় ভক্ত রয়েছে। আর গোটা কৃষ্ণনগরে ১১ হাজারের বেশি খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। শুধু খ্রীস্টানরা নয়, এই সময়টা আম বাঙালী কেক খাই। তাই সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না স্থানীয় বেকারিগুলোও। পথে ঘাটে এই সময় দোকানীরা একাধিক রঙ বেরঙের নামী কোম্পানির কেকও তোলে। তবে বেকারির ব্যবসায় যুক্ত মালিকরা ডিমের দাম নিয়ে এই মুহূর্তে আশঙ্কায়। শুধু ডিম নয়, কেকের উপকরণের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিমের দাম ২২০ টাকা ক্রেট হয়েছে। ৩০ টাকার ময়দা ৩৮ টাকা হয়েছে। ডালডা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া রিফাইন তেল ১৫০ টাকা, কাজু ৯০০ টাকার বেশি হয়েছে।
এ নিয়ে বেকারির মালিক দুলাল সাহা বলেন , 'শীত থাকায় ডিমের চাহিদা বাড়ে। তাই জোগান কমের জন্য দাম বেড়ে যায় ঠিকই। কিন্তু এবার ডিমের দাম বড্ড বেড়েছে। সাড়ে ৮ টাকায় ডিম কিনতে হচ্ছে। তাতে কেকের দাম বাড়বেই। আম জনতার সেই কেক ক্রয় করা নিয়ে উদ্বেগ থাকছেই।' এ নিয়ে কৃষ্ণনগরের এক বিখ্যার বেকারির মালিক রাজু গোমস অবশ্য কিছুটা অন্য সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এবার কেকের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ডিমের দাম বাড়লেও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। মানুষ এই সময়টা ভালো টাকা দিয়ে কেক খেতে রাজী। আমরা সেই মতো মান রাখতে কেকের দাম বাড়িয়েছি। এক পাউন্ড কেক ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ হয়েছে। আর দুপাউন্ড হয়েছে ৩৫০ টাকা। এতে লাভ কিছুটা কমছে। তবে আমরা কেকের ব্যবসা নিয়ে আশাবাদী। '
এ প্রসঙ্গে শহরের নামী একটি বেকারির মালিক জয় গোমস বলেন, ডিমের দাম বাড়লেও আমরা কেকের মান ভালো করার দিকে দৃষ্টি রাখি।কারণ নামী কোম্পানিগুলি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কেকের প্যাকেজিংয়ে মোটা টাকা খরচ করে। আমরা সেই টাকায় কেকের মান ভালো করি। তাই খেতে অনেক ভালো হয়। ক্রেতারাও এখন স্থানীয় বেকারির কেকের দিকে ঝুঁকছে।
আরও পড়ুন- খালেদা পুত্রের ভাষণে ১৯৭১-এর প্রসঙ্গ, ইউনূস উৎখাত কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?
আরও পড়ুন-'হিন্দু-মুসলিম ভোট ভাগের খেলায় মেতেছে BJP-তৃণমূল', হুমায়ুনের 'মিশন-বাবরি' নিয়ে বিস্ফোরক অধীর
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us