/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/30/hearing-2025-12-30-08-43-16.jpg)
SIR hearing: এসআইআর শুনানিতে প্রবীণরা।
শীতের হিমেল উত্তুরে বাতাস উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কৃষ্ণনগর সিএমএস স্কুল মাঠে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সত্তর থেকে চুরাশি বছর বয়সী একাধিক প্রবীণ ও প্রবীণা। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানিতে অংশ নিতে পুরসভা এলাকার ‘নো ম্যাপিং’-এ পড়া এই প্রবীণদের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক। অনেকেরই আশঙ্কা, ভিটেমাটি হারাবেন কি না।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরসভা এলাকার শুনানি উপলক্ষে স্কুল মাঠে বড় প্যান্ডেল, মাইকে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছিল। এদিন ৯৮০ জনেরও বেশি মানুষ শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী, কৃষ্ণনগর–১ বিডিও রঞ্জন সর্দারসহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
শক্তিনগরের আশু রায় রোডের বাসিন্দা ৮৫ বছরের সন্ধ্যা দাস উদ্বেগ নিয়ে শুনানিতে যোগ দেন। প্রয়াত রেলকর্মী স্বামী গোপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে সংসার গড়েছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে যশোর জেলা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে এপারে আসা সন্ধ্যা দেবীর স্মৃতিতে আজও ওপার বাংলার মাঠ-ঘাট, পুকুরপাড় অমলিন। তবে তিনি স্পষ্ট জানালেন, এপারের ভিটেমাটি কোনওভাবেই হারাতে চান না। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এই শীতের সকালে তাঁকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। তিনি বলেন, “ভয় তো হচ্ছেই। এই বয়সে লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে থাকা খুব কষ্টের।”
আরও পড়ুন- Bangladesh News LIVE Updates:বাংলাদেশ হারাল প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে, না ফেরার দেশে খালেদা জিয়া
একই ছবি কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির বাসিন্দা ৮২ বছরের রেখারাণী কুন্ডুর ক্ষেত্রেও। ১৯৭১ সালে যশোর থেকে এদেশে আসেন তিনি। ১৯৮১ সালে স্বামী রঞ্জিত কুন্ডুর মৃত্যু হয়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ছেলে ও নাতনির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভিটেমাটি কে হারাতে চায়! ভয় তো আছেই।”
আরও পড়ুন-Khaleda Zia death: ইতিহাসের এক অধ্যায়ের অবসান, প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া
৭৪ বছরের বাসন্তী জোয়ার্দার শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও শুনানিতে হাজির ছিলেন। তাঁর শরীরে টিউমার রয়েছে। বিয়ের সূত্রে মুর্শিদাবাদ থেকে নদীয়ায় আসা বাসন্তী দেবীর দাবি, ১৯৭১ সালে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন, অথচ ২০০২ সালে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যায়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মেয়েকে পাশে নিয়ে মাঠেই বসে ছিলেন তিনি। ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এর জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকার দায়ী।”
শক্তিনগরের বাসিন্দা ৭০ বছরের সরস্বতী পালের নামও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। বাড়িতে নোটিশ আসার পর তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ও মাঠে বসে কাটাতে হয় তাঁকে। তিনি বলেন, “আগে এসব ছিল না। তাই ভয় আছে,” পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র সরকারের দিকেই আঙুল তোলেন।
বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী প্রবীর মুখোপাধ্যায় ১৯৮৯ সালে বহরমপুর থেকে কৃষ্ণনগরে আসেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭২ বছর। দীর্ঘ আট বছর ধরে আর্থ্রাইটিসে ভুগলেও স্ত্রী আরতি মুখোপাধ্যায় ও ছেলে প্রসূনের সঙ্গে শুনানিতে হাজির হন তিনি। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রবীরবাবু বলেন, “তখন রেজিনগরে পোস্টিং ছিল, আসা হয়নি। তাই নাম ওঠেনি। চিন্তা তো রয়েছেই।”শুনানি ঘিরে প্রবীণদের এই ভিড় ও উদ্বেগ ফের একবার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us