/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/garu-2026-02-01-17-01-36.jpg)
Dooars Offbeat Destination: অপূর্ব এই তল্লাটে বেড়ানোর ভরপুর স্বাদ নিন!
Weekend Getaway from Kolkata: ডুয়ার্স মানেই কি শুধু গোরুমারা, জলদাপাড়া কিংবা বক্সার জঙ্গল? চেনা ছকের বাইরে, পর্যটকদের কোলাহল থেকে বহুদূরে ডুয়ার্সের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এমন কিছু গোপন ঠিকানা, যার খোঁজ অনেকেই রাখেন না। ঠিক এমনই এক অফবিট ডেস্টিনেশন হলো আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের অন্তর্গত, গারুচিরা। ভুটান পাহাড়ের কোলে, ঘন জঙ্গল আর দুই পাহাড়ি নদীর মাঝে অবস্থিত গারুচিরা যেন এক সবুজ ক্যানভাস।
ভুটান পাহাড় ও দুই নদীর সঙ্গম
গারুচিরার ভৌগোলিক অবস্থানই এর প্রধান আকর্ষণ। জায়গাটি সুক্তি এবং রেতি, এই দুই পাহাড়ি নদীর মাঝখানে অবস্থিত। এখান থেকে হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যায় ভুটান পাহাড়কে। বান্দাপানি ফরেস্ট রেঞ্জের অন্তর্গত এই গ্রামটি একেবারে ভারত-ভুটান সীমান্তে। বর্ষায় এখানকার রূপ হয় একরকম, আবার শীতে তা বদলে যায় অন্যরূপে। পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা আর নিচে কুলকুল করে বয়ে চলা নদীর শব্দ, গারুচিরা মানেই নির্ভেজাল শান্তি।
হাতির করিডর ও রোমাঞ্চ
গারুচিরা কেবল শান্ত প্রকৃতির জায়গা নয়, এখানে রয়েছে গা ছমছমে জঙ্গলের রোমাঞ্চও। এই এলাকাটি আদতে হাতির করিডর হিসেবে পরিচিত। ডুয়ার্সের আসল বন্য রূপটি এখানে খুব কাছ থেকে অনুভব করা যায়। এখানকার জনবসতি খুব পাতলা। স্থানীয় বনদপ্তরের ইকো-টুরিজম কটেজগুলি তৈরি করা হয়েছে পিলারের ওপর, যাতে বন্যপ্রাণীর আনাগোনাতেও পর্যটকরা সুরক্ষিত থাকেন। রাতে কটেজের বারান্দায় বসে দূরে হাতি ডাকার শব্দ বা জোনাকির আলো এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।
আরও পড়ুন-Dhuluk: অফবিট পাহাড়ি স্বর্গ ধুলুক: অপরূপ-অসাধারণ ছোট্ট গ্রামের জাদুতে মুগ্ধ পর্যটকরা
কী দেখবেন?
গারুচিরায় দর্শনীয় স্থান বলতে প্রকৃতি নিজেই। কংক্রিটের জঙ্গল থেকে পালিয়ে যারা দু'দণ্ড শান্তি খুঁজছেন, তাঁদের জন্য আদর্শ এই জায়গা। সুক্তি বা রেতি নদীর পাড়ে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার অনুভূতি অনবদ্য। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, স্থানীয় আদিবাসী মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা দেখতে গ্রাম ঘুরে দেখতে পারেন। এখান থেকে কাছেই ভুটানের গোমতু বা লাগোয়া এলাকা। গাইড নিয়ে জঙ্গল সাফারির সুযোগও থাকে মাঝে মাঝে।
কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?
গারুচিরা পৌঁছাতে হলে ট্রেনে করে নামতে হবে হাসিমারা, নিউ আলিপুরদুয়ার কিংবা ডালগাঁও স্টেশনে। ডালগাঁও স্টেশনটি গারুচিরার সবথেকে কাছে (প্রায় ১৫-২০ কিমি)। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বীরপাড়া হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় গারুচিরায়। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিমি।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
থাকার জন্য রয়েছে বন উন্নয়ন নিগমের (WBFDC) ইকো কটেজ। অনলাইনে বা সরাসরি যোগাযোগ করে বুকিং করা যায়। এছাড়া বর্তমানে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্যোগে দু-একটি হোমস্টে গড়ে উঠেছে, যেখানে ঘরোয়া খাবার ও আতিথেয়তা পাওয়া যায়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us