/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/28/voter-list-2025-10-28-09-57-55.jpg)
voter list controversy: প্রতীকী ছবি।
SIR: এসআইআর (SIR) শুরু হতেই বাংলায় বেড়েছে ভূতের আনাগোনা! এর আগে ভোটের দিন ভূতের দল বাংলার এই মর্ত্য-ধামে আসত। বুথে এসে চলেও যেত। বাড়ির লোকজন খোঁজ নিতে গিয়েও দেখা পেত না। কিন্তু বুথে নির্বাচন কমিশনের খাতায় ঠিক বুড়ো আঙুলের টিপ-ছাপ বা খাতায় স্বাক্ষর-সাবুদ করে আবার ফিরেও যেত। এবার এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ চলাকালীন ভূত আসছে আর যাচ্ছে। এর পিছনে কারা রয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি উঠেছে।
রাজ্যে ২২০৮টি বুথে শয়ে শয়ে ভূতে এসেছিল। সংখ্যাটা প্রকাশ পেতেই হইচই শুরু হয়। তারপর ওই বুথের সংখ্যার তালিকা নেমে এসেছে ৪৮০তে। এখানেও বড় প্রশ্ন এখনও রয়েছে। এই বুথগুলিতে গত ২৩ বছরে একটা মানুষেরও মৃত্যু হয়নি। অমর মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এই বাংলায়? এদের জীবন ধারন নিশ্চয় গবেষণা করা দরকার! প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গড় আয়ুর দেশ হিসাবে বিশ্বে প্রথম তিনের তালিকায় রয়েছে মোনাকো, হংকং, জাপান। এদেরও টপকে যেতে চলেছে বাংলার কিছু এলাকা! অন্তত নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের দৌলতে নয়া রেকর্ড সামনে এল।
সর্ষের মধ্যে ভূত! ভূত আর ভূত। নাকি অমরত্ব! নির্বাচন কমিশন প্রথমে ২২০৮টি বুথের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে এই সব বুথে ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েছিল। এই তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে যায়। এক দিনেই ওই বুথের তালিকা নেমে আসে ৪৮০-তে। কিন্তু এটাও কি সম্ভব। প্রশ্ন, ডিজিটাইজেশন হওয়ার পর ডিলিট করতে হচ্ছে? ইতিমধ্যে বিরোধীরা ইলেকশন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে। ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনও জালিয়াতি করা চলবে না।
নির্বাচনে জয়ের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে রাজনৈতিক দলগুলি। এর মধ্যে ভোটার তালিকায় মৃত ও ভুয়ো নামের পাশাপাশি, দুই জায়গায় নাম রাখার কৌশল রয়েছে। এরাজ্যে বসবাস করা ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের দুই জায়গায় নাম রয়েছে, একটু তদন্ত করলেও এমন হাজার হাজার নাম প্রকাশ পেতে পারে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, নির্বাচন ঘোষণার আগেই তালিকায় পছন্দমতো ভুয়ো নাম রেখে ভোটের ময়দানে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল অব্যাহত। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশের অঙ্গীকার করলেও তা কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
সব থেকে বড় প্রশ্ন, এই বাংলায় এমন কোনও বুথ রয়েছে যেখানে গত ২৩ বছরে একজন ভোটারেরও মৃত্যু হয়নি? সেক্ষেত্রে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলে এটা সব থেকে বড় সামাজিক সাফল্য বলে চিহ্নিত করা যেতেই পারে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই বুথগুলির তালিকা প্রকাশ্যে আনতে হবে। মানুষের জানার অধিকার রয়েছে কোন কোন জেলায়, কোন কোন বুথে এমন আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটেছে। অমর মানুষের তালিকাও সামনে আসা উচিত।
আরও পড়ুন-Kolkata Metro: মেট্রো এখন আরও স্মার্ট, অনেক বেশি আধুনিক, বিশেষ উদ্যোগের প্রশংসা সর্বত্র
মৃত্যুর পরও কারা অমরত্ব প্রদানকারী, তদন্ত করে সেইসব বিএলও বা নির্বাচন কমিশনের কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি উঠেছে। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, পাশাপাশি কাদের ভয় দেখানোর জেরে বা কৌশলে এই বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে BLO-দের? তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এতবড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে বাধ্য। এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্ত জেলায় জেলায় ছুটছেন। এখন দেখার বিষয়, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে ভূতের দলবল বাংলা থেকে পালায় কিনা!
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us