/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/24/p5FiaZ8IXqX2yZOpAvBh.jpg)
University of Gour Banga: মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
সরস্বতী পুজোর ঠিক আগের রাতে তড়িঘড়ি পুজো কমিটি গঠন এবং আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগে উত্তাল মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের অন্ধকারে রেখে উপাচার্য আশীষ ভট্টাচার্যের একক সিদ্ধান্তে গঠিত এই ২১ জনের কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।
বিতর্কের মূলে কী?
পড়ুয়াদের অভিযোগ, জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতির জন্য উপাচার্যকে দু’বার লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। গত ১৫ ও ১৯ জানুয়ারি দু’দফায় চিঠি দেওয়া হলেও উপাচার্য তাতে কর্ণপাত করেননি। অথচ পুজোর ঠিক আগের দিন, বুধবার রাতে আচমকাই ২১ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগের তির উপাচার্যের দিকে
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে পুজোর জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হলেও কাগজে-কলমে মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাকি টাকা তছরূপের আশঙ্কা করছেন পড়ুয়া ও অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ।
আরও পড়ুন- SIR শুনানি-কেন্দ্রে ভাঙচুর, দাপুটে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে FIR
এদিকে কমিটি গঠনের পরেই রহস্যজনকভাবে ছুটিতে চলে গিয়েছেন উপাচার্য আশীষ ভট্টাচার্য। বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পুজোর লগ্ন, পুরোহিতের সময় বা প্রসাদ বিলি, কোনও বিষয়েই স্পষ্ট কোনও পরিকল্পনা নেই। পুজো কমিটির কর্মকর্তারাও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
আরও পড়ুন-বইমেলা প্রাঙ্গণেই ১০ কোটির 'বইতীর্থ', উদ্বোধনে এসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠন
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, “নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খামখেয়ালি আচরণ করছেন। পুজোর একদিন আগে তাঁর ঘুম ভাঙল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
​একই সুর শোনা গিয়েছে অধ্যাপকদের সংগঠন ‘ওয়েবকুপা’-র নেতা তথা প্রাক্তন কন্ট্রোলার সনাতন দাসের গলায়। তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা অনেকদিন আগে আবেদন করলেও শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি কমিটি করা হল। পুজোর প্রস্তুতি কীভাবে চলছে, তা আমাদের কাছেও স্পষ্ট নয়।”
অন্যদিকে, পুজো কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জ্যোৎস্না সাহা জানান, উপাচার্যের নির্দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পুজোর খরচ হচ্ছে। তবে বাজেটের অঙ্ক নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
পড়ুয়াদের দাবি
আগামীকাল সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। পড়ুয়ারা চেয়েছিলেন দুটি অনুষ্ঠানই ধুমধাম করে পালন করতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ‘দায়সারা’ মনোভাব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এখন উৎসবের মেজাজ ফিকে হয়ে বিতর্কের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us