/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/hadi-2025-12-19-08-34-31.jpg)
Sharif Osman Hadi: অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীদের গুলিতে জখম হয়েছিলেন হাদি। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ওসমান শরীফ হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চলছে টানা বিক্ষোভ। এই আবহেই বাংলাদেশের পুলিশ এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। পুলিশের দাবি, হাদী হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই প্রধান সন্দেহভাজন ঘটনার পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
নজরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত পেরোনোর পর সন্দেহভাজনদের প্রথমে পূর্তি নামে এক ব্যক্তি আশ্রয় দেন। পরে সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক তাদের মেঘালয়ের তুরা শহরে নিয়ে যায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যাঁরা সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকতে পারেন বলে অনানুষ্ঠানিকভাবে খবর পাওয়া গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “আমরা অনানুষ্ঠানিক তথ্য পেয়েছি যে সন্দেহভাজনদের যারা সাহায্য করেছে সেই পূর্তি ও সামিকে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে। তবে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে, যাতে দ্রুত অভিযুক্তদের ফেরত এনে আইনের আওতায় আনা যায়। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওসমান শরীফ হাদী ছিলেন একজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মী। তিনি ভারত ও আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাতের সময় চলা গণ আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দুষ্কৃতীরা হাদীর মাথায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ৬ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। বহু জায়গায় অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাজধানীতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের দপ্তর, পাশাপাশি ছায়ানট ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়েও আগুন লাগানোর ঘটনা সামনে আসে।
আরও পড়ুন-বাড়ি ঘিরে ফেলল পুলিশ, রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গ্রেফতার হুমায়ুন পুত্র, অভিযোগ টা ঠিক কী?
আরও পড়ুন- বিধানসভা ভোটের আগে বড় চমক! ওয়েইসির AIMIM-এর সঙ্গে জোটের প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের
আরও পড়ুন-Migrant worker killing: ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক খুন, তদন্তে পড়শি রাজ্যে পুলিশ পাঠালেন মমতা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us