West Bengal SIR 2025: বাংলাদেশে বিতাড়িত হওয়ার আতঙ্কে ৭৬ বছরের বৃদ্ধা, ২০০২ এ নাম থাকা সত্ত্বেও ভিটে মাটি হারানোর ভয়....

পরিবারের বাকি সদস্যরা এসআইআর-এর ফর্ম পেলেও গোটা দত্ত পরিবার জুড়ে ছড়িয়েছে এই আতঙ্ক। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে গীতা দেবী কলকাতার বাসিন্দা।

পরিবারের বাকি সদস্যরা এসআইআর-এর ফর্ম পেলেও গোটা দত্ত পরিবার জুড়ে ছড়িয়েছে এই আতঙ্ক। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে গীতা দেবী কলকাতার বাসিন্দা।

author-image
Mousumi Das Patra
New Update
হাঁসখালি, বগুলা, এসআইআর ফর্ম, ভোটার তালিকা ভুল, গীতা দত্ত, বৃদ্ধা মৃত দেখানো, নির্বাচন কমিশন বিতর্ক, ভিটে দেশ আতঙ্ক, বিএলও গাফিলতি, বাংলাদেশি তকমা ভয়, নদিয়া জেলা খবর, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি

জীবিত থাকলেও ২০২৫-র ভোটারের তালিকায় তাঁর নাম নেই

জীবিত থাকলেও ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তাই এসআইআর-এর ফর্মই পেলেন না ৭৬ বছরের বৃদ্ধা গীতা দত্ত। এসআইআর-এর আবহে হাঁসখালির বগুলার ৪২নং পার্টের কলেজ পাড়ার গীতাদেবী ভিটে দেশ হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। 

Advertisment

আরও পড়ুন-উৎসবের আমেজ! হাতে জাতীয় পতাকা, বাস ভাড়া করে হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ দেখতে মানুষের ঢল 

পরিবারের বাকি সদস্যরা এসআইআর-এর ফর্ম পেলেও গোটা দত্ত পরিবার জুড়ে ছড়িয়েছে এই আতঙ্ক। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গীতা দেবী কলকাতার বাসিন্দা। হাঁসখালির বগুলার বাসিন্দা গোরাচাঁদ দত্তের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বছর পাঁচেক আগে গোরাচাঁদ দত্ত মারা যান। বর্তমানে বগুলার নিজের বাড়িতে ছেলে গৌতম দত্ত, বৌমা পাপিয়া দত্ত রায় ও নাতিকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। তবে এর মধ্যে ভিটে দেশ হারানোর ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গিয়েছেন গীতা দেবী। সুখের সংসারে হঠাৎই যেন বিষাদের সুর নেমে এসেছে। গীতাদেবীর সঙ্গে গোটা দত্ত পরিবারে নেমেছে একরাশ আতঙ্ক।

আরও পড়ুন- পর্যটকদের জন্য বিরাট দুঃসংবাদ! বন্ধ হল দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ রেস্তোরাঁর পানশালা

সমগ্র দেশে যখন এসআইআর আবহে তোলপাড় তখন গীতা দত্তর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড  অর্থাৎ ভারতের নাগরিক হয়েও এসআইআরের ফর্ম পাননি। গীতাদেবীর নাম ২০০২ ও ২০২৪ সালের ভোটার লিস্টে রয়েছে। তাই ২০২৫ সালে ভোটার লিস্টে তিনি জীবিত থেকেও আজ ডিলিট হয়ে গিয়েছেন। 

এ নিয়ে গৃহবধূ পাপিয়া দত্ত রায় বলেন, "বাড়িতে বিএলও এসেছিলেন এসআইআরের ফর্ম নিয়ে। তিনি আমার এবং আমার স্বামীর দুটি ফর্ম দেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করি আমার শাশুড়ির ফর্মটা দেবেন না? তখন বিএলও  জানান, ২০২৫ সালের ভোটার লিস্টে গীতা দত্ত মৃত দেখা যাচ্ছে। এই জন্যই ওঁনার এসআইআরের ফর্ম আসেনি। শাশুড়ি মা এই কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন"। 

আরও পড়ুন-নিষিদ্ধ হতে চলেছে আধার ফটোকপি? ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে আমূল বদল আনছে UIDAI

তিনি আরও বলেন, "শাশুড়ি মা'কে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি। তিনি বলেন বৌমা তুমি দেখ আমি বেঁচে রয়েছি, এই দেখ আমি তোমার হাত ধরেছি। তোমার সঙ্গে কথা বলছি। তবু আমাকে জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত করে দিল নির্বাচন কমিশন। আমাকে এবার বাংলাদেশী তকমা দিয়ে বিতাড়িত না করে! মায়ের আতঙ্কের কথা শুনে ছেলে গৌতম দত্ত বলেন, ঘটনা জানার পর আমি বিডিও'র কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। বৃদ্ধা মা আতঙ্কে রয়েছেন এই বুঝি তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এই কথা সারা গ্রামের সকলেই জেনে গিয়েছে।' 

আরও পড়ুন-চিকেন প্যাটিস বিক্রির 'অপরাধে' খাস কলকাতায় বিক্রেতাকে হেনস্থা, মারধর, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়   

'এ প্রসঙ্গে তৃণমূলনেতা প্রমথ রঞ্জন বোস বলেন, 'এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তবে কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে সেটা তদন্ত করে দেখা উচিত। পাশাপাশি তিনি সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন যাতে বৃদ্ধার নাম ভোটার লিস্টে তোলার ব্যবস্থা করা হয়। এ নিয়ে গীতা দত্ত বলেন, 'আমি কি মরে গিয়েছি! আমি তো এ দেশের নাগরিক! ভয়ে আছি ওদেশে পাঠিয়ে দেবে কিনা!' এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, 'বিষয়টি আমি দেখছি।'

Nadia SIR