/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/30/himanta-sarma-miya-remarks-assam-opposition-controversy-2026-01-30-10-35-18.jpg)
‘মিয়া’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের আক্রমণের জবাব মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
‘মিয়া মুসলিম’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
‘মিয়া মুসলিম’ মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।তিনি দাবি করেন, ‘মিয়া’ শব্দটি তাঁর দেওয়া নয়। অসমে যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসে বসবাস করছেন, তাঁরাই নিজেদের ‘মিয়া’ বলে পরিচয় দেন। এই শব্দ তাঁর কল্পনাপ্রসূত নয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনও মন্তব্যও নয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন- বলিউড কাঁপানোর আগে কংগ্রেসের মঞ্চই ছিল পছন্দের? অরিজিৎ সিং সম্পর্কে গোপন তথ্য ফাঁস অধীরের!
এক্স -এ এক পোস্টে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, “এটি আমার ভাষা নয়, আমার কল্পনা নয় এবং কোনও রাজনৈতিক আঙ্গিকও নেই। এগুলি আদালতের ব্যবহৃত শব্দ।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, চুপিসারে ও প্রতারণার মাধ্যমে অসমে যে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটছে, তা রাজ্যের নিম্ন অসমের ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলির জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে এই জেলাগুলি ক্রমশ মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ওই এলাকাগুলিকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিও উঠতে পারে। নিম্ন অসম ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এতে ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে জানান, তাঁদের লড়াই কোনও ধর্ম বা কোনও ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নয়; এই উদ্যোগ অসমের পরিচয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্যই নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার এক মন্তব্যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, অসমে বাংলাদেশি ‘মিয়া’রা বসবাস করছে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা (Special Revision) প্রক্রিয়ার সময় বিজেপির কর্মীরা এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই মন্তব্যের পরই বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনায় সরব হয়।
অসমে ‘মিয়া’ মন্তব্য ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মুখে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস ও AIUDF অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষমূলক রাজনীতি করছেন এবং সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন। যদিও হিমন্ত শর্মা নিজ বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরনো রায়ের উল্লেখ করেছেন।
এর আগে একাধিক সভা ও বক্তব্যে হিমন্ত শর্মা অসমের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে ‘সভ্যতার লড়াই’ বলেও আখ্যা দেন। একাধিকবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দিয়ে তাঁদের ‘অচেনা মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি বিক্রি, বাড়ি ভাড়া বা চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আপস! হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য, পাখির চোখ বাংলা, আজই রাজ্যে শাহ
এই সব মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ধর্ম ও পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোট মেরুকরণের চেষ্টা করছে। AIUDF বিধায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, মুসলিম সমাজের মানুষেরা চাকরি বা ব্যবসায় উন্নতি করলে তাকেও ‘জিহাদি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি নজিরবিহীনভাবে নীচুস্তরের রাজনীতি এবং গরিব শ্রমজীবী মানুষদের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেস নেত্রী মীরা বোরঠাকুর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ভুলে যাচ্ছেন এবং তাঁর বক্তব্যে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনও শাসক দলের ইচ্ছার অধীন। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রসঙ্গে ‘৪-৫ লক্ষ মিয়া ভোট বাদ যাবে’ এই মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার হিমন্ত শর্মা ২০০৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করেন, যেখানে অসমে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এই ভাষা তাঁর নিজের নয়, বরং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ। তাঁর দাবি, এটি কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং অসমের পরিচয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রয়াস।
আরও পড়ুন- ভোটের আগে বাংলাদেশে তোলপাড়, ইউনূসের বিরুদ্ধে 'বোমা' ফাটালেন হাসিনা
তবে তাঁর এই ব্যাখ্যাতেও বিতর্ক থামেনি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী অসমের জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ কর্পোরেট স্বার্থে বিক্রি করছেন এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে অসমের রাজনীতিতে ‘মিয়া’ মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us