/indian-express-bangla/media/media_files/gguqR7dTi4ROPbgcvmIn.jpg)
Vande Bharat Sleeper Train: মেনু বদল
হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে অবশেষে নিরামিষের পাশাপাশি আমিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল রেল। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অনুরোধ ও চাপের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই স্লিপার পরিষেবার উদ্বোধন করেন। তবে ট্রেনে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়, বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে।
আরও পড়ুন-SIR: নবান্ন-কমিশন ফের মুখোমুখি: তিন IAS-এর বদলি বাতিলের কড়া নির্দেশ দিল্লির
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, রবিবার তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার চালুর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “রেলমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই যাত্রীদের জন্য আমিষ খাবারও পাওয়া যাবে। দু’তিন দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।”
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছিল, শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন আসলে বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির উপর আঘাত। এই অভিযোগ ঘিরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। যদিও সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ট্রেনটি সদ্য চালু হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই সব পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয় না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার করেছে।”
রেল সূত্রের খবর, প্রথমে এই রুটে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যেহেতু কলকাতা ও কামাখ্যা দুটিই ধর্মীয় স্থান।হাওড়া–গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের মাধ্যমে কলকাতার কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের মতো কালীমন্দির এবং গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, এই ট্রেনের ফলে বাংলা ও অসমের ভক্তরা একে অপরের পবিত্র স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
আরও পড়ুন-'নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ', ভোটের আগে নীতিনের মন্তব্যে তোলপাড়, গর্জে উঠল তৃণমূল
তবে বাস্তবতা হল, বাংলা ও অসম উভয় রাজ্যে আমিষ খাদ্য সংস্কৃতি বেশি জনপ্রিয়। মাছ ও মাংস এই দুই রাজ্যের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের অঙ্গ। তাছাড়া কালীঘাট বা কামাখ্যা মন্দিরে ভক্তদের জন্য আমিষ ভোগ বা প্রসাদে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের লাগাতার আক্রমণে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপি নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ে। এর আগেও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের বাঙালিদের মাছ খাওয়া নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই ২৩ জানুয়ারি রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার চালুর দাবিকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, “সব কিছুর বিরোধিতা করার দরকার নেই। এটি যুক্তিসঙ্গত দাবি। বাংলা থেকে ছাড়া একটি ট্রেন যদি ধরে নেয় বাঙালিরা মাছ খাবেন না, তা হতে পারে না।”
তবে বিজেপি সূত্রের দাবি, বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে ঠিক কী ধরনের আমিষ খাবার পরিবেশন করা হবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মাছ পরিবেশন করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবে চিকেনের মতো আমিষ পদ অবশ্যই মেনুতে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের এক নেতা। অন্যদিকে, রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি নেতারা আগে বাঙালিদের মাছ খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন, তা আমরা ভুলিনি। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোট মিটলেই আবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণ শুরু হবে।”
আরও পড়ুন- বন্ধ ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের রক্তস্নাত দেহ, পাশে ঝুলছেন গৃহকর্তা, তদন্তে পুলিশ


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us