ফের হামলার মুখে বন্দে ভারত, হাওড়া আসার পথে পাথর ছোড়ার ঘটনা, তুমুল চাঞ্চল্যে তোলপাড়

ফের হামলার মুখে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। রবিবার পুরী থেকে হাওড়াগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে চরম চাঞ্চল্য।

ফের হামলার মুখে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। রবিবার পুরী থেকে হাওড়াগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে চরম চাঞ্চল্য।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Vande Bharat Sleeper Train,বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন,Howrah to Kamakhya Vande Bharat Sleeper,হাওড়া থেকে কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার,India's First Sleeper Vande Bharat,ভারতের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত,Vande Bharat Sleeper Schedule 2026,বন্দে ভারত স্লিপার সময়সূচী ২০২৬,Howrah-Guwahati Vande Bharat Stops,হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্টপেজ,NFR Vande Bharat Sleeper News,এনএফআর বন্দে ভারত স্লিপার নিউজ,Train Number 27575 and 27576,ট্রেন নম্বর ২৭৫৭৫ এবং ২৭৫৭৬,Vande Bharat Sleeper Coach Composition,বন্দে ভারত স্লিপার কামরার বিন্যাস

হামলার মুখে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।

ফের হামলার মুখে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। রবিবার পুরী থেকে হাওড়াগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে চরম চাঞ্চল্য। গত দু’সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার হামলার মুখে পড়ল সেমি-হাইস্পিড এই ট্রেন। পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার দিকে আসার সময় ওড়িশার কটক সংলগ্ন এলাকায় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।রেল সূত্রের খবর, কটক অতিক্রম করার সময় আচমকাই  বন্দে ভারতের সি-১৬ নম্বর কামরায় পাথর ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়ায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব রেলের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে কটকের কাছে বন্দেভারত এক্সপ্রেসে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। 

Advertisment

এদিকে হাওড়া থেকে অসমের কামাখ্যা পর্যন্ত সদ্য চালু হওয়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যাত্রীদের জন্য শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা নিয়ে এবার একই সুরে কথা বলল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। দীর্ঘদিন পর এই প্রথম কোনও ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী দল উভয়েই রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল।

গত ১৭ জানুয়ারি মালদা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন। ট্রেনটি চালু হওয়ার পরই খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, যাত্রীদের জন্য শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার রাখা হয়েছে। দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, এটি আমিষ প্রিয় বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের উপর সরাসরি আঘাত।

আরও পড়ুন- সোনায় মোড়া পেন থেকে ইন্দিরা গান্ধীর স্বাক্ষরের সাক্ষী.... একছাদের নিচেই কলমের অজানা ইতিহাস

তৃণমূলের যুক্তি, অসম ও বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বহু মিল রয়েছে এবং মাছ দুরাজ্যের  মধ্যে অন্যতম। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ  বলেন, “এইভাবে নিরামিষ খাবার চাপিয়ে দিয়ে বিজেপি জোর করে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করছে। যাত্রীরা সম্পূর্ণ ভাড়া দিচ্ছেন, তাহলে তাঁদের পছন্দের খাবার পাওয়ার অধিকার থাকবে না কেন? নিরামিষের পাশাপাশি আমিষ খাবারও দেওয়া উচিত। এটি বিজেপির তরফে বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যপরম্পরার উপর আক্রমণ।”

এই বিতর্কে কলকাতা বইমেলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিস্ময়করভাবে তৃণমূলের দাবির সুরেই কথা বলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “সব কিছুর বিরোধিতা করার প্রয়োজন নেই। এটি একটি যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য দাবি।”

শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য অনেককেই চমকে দিলেও বিজেপির একাংশ নেতার মতে, তিনি সঠিক অবস্থান নিয়েছেন। অতীতে আমিষপ্রিয় বাঙালিদের নিয়ে দলের কিছু নেতার মন্তব্য ঘিরে বিজেপিকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, “মাছ, বিশেষ করে আমিষ খাবারের সঙ্গে বাংলার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলার অধিকাংশ বিজেপি নেতা ও কর্মীরাও মাছপ্রিয়। এই দাবির বিরোধিতা করা মোটেই বিচক্ষণ হতো না। রেল চাইলে খুব সহজেই বন্দে ভারতে আমিষ খাবার পরিবেশন করতে পারে।”

আরও পড়ুন- সুপ্রিম নির্দেশ মেনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের, আপনার নাম নেই তো? কীভাবে জানবেন?

রেল সূত্রের একাংশের দাবি, কামাখ্যার মতো ধর্মীয় তীর্থস্থানের সঙ্গে ট্রেনটি যুক্ত হওয়ায় নিরামিষ খাবারই রাখা হয়েছে। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ রাজ্যের বিজেপি নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, “অন্য রাজ্যে ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার আগে নিরামিষ খাওয়ার রীতি থাকতে পারে, কিন্তু বাংলায় তা নেই। এখানে কালীসহ বিভিন্ন দেবদেবীর ভোগেও মাছ-মাংস দেওয়া হয়।”

এদিকে পূর্ব রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্দে ভারত ট্রেনের খাবারের মেনু রেল বোর্ড এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। পূর্ব রেলের এই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

আরও পড়ুন- বিস্তর টালবাহানার পর মনিরুলের বিরুদ্ধে এবার FIR দায়ের, বিরাট বিপাকে তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক

pelting stones Vande Bharat