/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/mamata-banerjee-murshidabad-sir-nrc-babri-row-2025-12-04-16-49-12.jpg)
মমতাকে বেনজির নিশানা হুমায়ুনের
Humayun kabir New Political Party : আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ২২ ডিসেম্বর আগের ঘোষণা মতই নতুন দল গঠন করতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দল গঠনের ঠিক আগে হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে বলেছেন, বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য শুধুমাত্র অর্থ বা ইট দান যথেষ্ট নয়, ভোট দেওয়াটাই আসল। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ বাবরি মসজিদের জন্য টাকা দিচ্ছেন, ইট দিচ্ছেন, অনলাইনেও অনুদান পাঠাচ্ছেন। কিন্তু মানুষ যদি তাঁকে বা তাঁর নতুন দলকে ভোট না দেয়, তাহলে এই মসজিদ কোনও দিন তৈরি হবে না।” তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেবে না। তাঁর মতে, বাবরি মসজিদ নিশ্চিত করতে হলে তাঁর দলকে অন্তত ৯০টি বিধানসভা আসন জিততে হবে। তখনই রাজ্যের ক্ষমতার ‘চাবি’ তাঁদের হাতে থাকবে।
গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর। এরপর থেকেই ওই এলাকায় মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার নামাজে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে জমায়েত হন। সেই দিন হুমায়ুন কবীর নিজেও ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, ২২ ডিসেম্বর বেলডাঙ্গায় রেকর্ড সংখ্যক জনসমাগম হবে এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করবেন।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তাঁর দল বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। পাশাপাশি তিনি নওয়াদা থানা এলাকার ত্রিমোহিনী এলাকায় ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে একটি জনসভাতেও যোগ দেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই তিনি দল গঠনের প্রস্তুতি জোরকদমে চালিয়ে গিয়েছে। শনিবার তিনি মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জনসংযোগ অভিযান শুরু করেন। তাঁর দলের তরফে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সমর্থকরা কীভাবে বাস ও ট্রেনে করে সভাস্থলে পৌঁছবেন, তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বহু বিতর্কের পর প্রশাসনের অনুমতি মিলেছে মুর্শিদাবাদের মির্জাপুরে, যেটি বেলডাঙ্গা থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এখানেই আজ ২২ ডিসেম্বর জনসভা করার কথা হুমায়ুন কবীরের। কবীর দাবি করেন, এদিনের সমাবেশ রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত রাজনৈতিক দলের সভাকে ছাপিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “২২ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় এখানে জনসভা হবে। এসডিও ও পুলিশের কাছ থেকে আমরা অনুমতি পেয়েছি। এদিনই নতুন দল ঘোষণা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন।”
একই সঙ্গে হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ২২ ডিসেম্বরের মঞ্চ থেকেই তিনি শাসক দলের যাবতীয় ‘অপকর্মের মুখোশ’ খুলে দেবেন। তিনি বলেন, “যেভাবে একই ব্যক্তিকে তিনবার মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে, জালিয়াতি, দুর্নীতি ও চাকরি বিক্রির সঙ্গে যেভাবে তৃণমূল জড়িত, তার সব কিছু এদিনের সভা থেকেই সাধারণ মানুষের সামনে আনব”।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে হুমায়ুন কবীর আহ্বান জানান, আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে অন্তত ১০০টি আসন দিতে। তাঁর প্রতিশ্রুতি, তখন বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, “এরপর মুর্শিদাবাদের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা হায়দ্রাবাদে যেতে হবে না। বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণেই একটি বড় ইসলামিক হাসপাতাল তৈরি করা হবে।”
বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ধর্মীয় মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে বহিষ্কারের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণ স্থানে নামাজে বিপুল মানুষের সমাগম দেখে হুমায়ুন কবীর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। হুমায়ুন বলেন, ২২ ডিসেম্বর দু’লক্ষ মানুষের উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে আসতে শুরু করেছেন। শুক্রবার নামাজের সময় বহু মানুষ বাবরি মসজিদের জন্য ইট দান করেছেন। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় ওই এলাকায় ইতিমধ্যে দশটিরও বেশি হোটেল খুলে গিয়েছে।
হুমায়ুন কবীর আরও ঘোষণা করেন, তাঁর দল শুধু বিজেপির বিরুদ্ধেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও লড়াই করবে। মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন মুসলিমরা মমতার দ্বারা বিভ্রান্ত হবে না। তারা বুঝে গিয়েছে, মমতা শুধু তাদের ভোট নেন, তাদের জন্য কিছুই করেন না।”
আরও পড়ুন- শুনানি পর্ব শুরুর আগেই ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ, SIR নিয়ে ফের বিরাট অভিযোগ, মৃত্যুতে তপ্ত আউশগ্রাম
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us